বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতির দাবিতে অনশনে শিক্ষক
সংগৃহীত
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষক সংকটের সমাধান এবং পদোন্নতির দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছে সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন। তার অনশনের সাথে আরও ২০ জন শিক্ষক একাত্মতা পোষণ করেছেন।
রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরের সামনে অনশন শুরু করেন তিনি। অনশন শুরু করা ওই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক।
অনশনরত শিক্ষক ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট চরমে। একেকজন শিক্ষককে ১২ থেকে ১৪ টি কোর্স পড়াতে হচ্ছে। অন্যদিকে আমাদের ন্যায্য দাবিটুকু মানা হচ্ছে না। আমরা শিক্ষক, লাঠি নিয়ে রাস্তায় নামতে পারি না। তো আমার জায়গা থেকে আমি অনশনে বসেছি। আমার কিছু সহকর্মী আজ আমার সাথে সহমত পোষণ করেছে। আশা করছি সোমবার সকাল ১০ টায় বাকি সহকর্মীরা মিটিং করে আমার সাথে একমত পোষণ করবেন।
আন্দোলনে একাত্মতা পোষণকারী শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাদেকুর রহমান বলেন, আমাদের অধ্যাপক পদোন্নতি বোর্ড হওয়ার পরেও দীর্ঘদিন নানা অজুহাতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন বঞ্চনার শিকার হচ্ছি আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী দুই বছর আগে আমার পদোন্নতি হওয়ার কথা, কিন্তু এখনো পায়নি। বাধ্য হয়ে আমরা এখন আন্দোলনের দিকে যাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছেন, অধ্যাপক বোর্ড গঠন হলেও পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। সহযোগি অধ্যাপকদেও বোর্ড বসানো হচ্ছে না। শিক্ষক সংকট সমাধানে কোন অগ্রগতি নেই। অনশনরত ড. জামাল উদ্দিনের সাথে শিক্ষকদের একাংশ যোগ দিয়েছেন। এতে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রত্যাশী শিক্ষক বেশি রয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। অধ্যাপক পদে বোর্ড হয়ে গেলেও পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে, সহযোগী অধ্যাপকদের বোর্ড বসানো হচ্ছে না সাথে সাথে বিভাগগুলোতে শিক্ষক সংকট চরমে। এসবের প্রতিকার চেয়ে জামাল উদ্দিনের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ যোগ দিয়েছেন। এরমধ্যে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রত্যাশি শিক্ষকদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, পদোন্নতির বিষয় নিয়ে ইউজিসির অবস্থান শিক্ষকদের আমি জানিয়েছি। ডিনদেরকেও জানিয়ে দিয়েছি, আমি এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি ইউজিসির সাথে আলোচনা করে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধানের।