জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিল্লির হাসপাতালে আফগান পেসার

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিল্লির হাসপাতালে আফগান পেসার

ছবি: সংগৃহীত

একসময়ের আফগানিস্তানের ভয়ংকর বাঁহাতি পেসার শাপুর জাদরান এখন শুয়ে আছেন দিল্লির একটি হাসপাতালের আইসিইউতে। ৩৮ বছরের এই ক্রিকেটার এখন জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচ খেলছেন, যেখানে প্রতিপক্ষ এক বিরল ও প্রাণঘাতী রোগ। নাম তার হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টোসাইটোসিস (এইচএলএইচ)। রোগটি চতুর্থ ধাপে পৌঁছে গেছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেই বিদ্রোহ করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

গত বছর অক্টোবরে প্রথম অসুস্থ বোধ করেন শাপুর। শুরুতে ছিল গুরুতর সংক্রমণ, যা টিবিতে রূপ নিয়ে মস্তিষ্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। কিছুটা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও আবার ফিরে আসতে হয় একাধিকবার। 

তারপর ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে ভেঙে পড়ে। রমজান মাসে বোন ম্যারো পরীক্ষায় ধরা পড়ে এইচএলএইচ-এর চতুর্থ ধাপ। এখন তিনি খুব কম কথা বলেন, বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে থাকেন। ওজন কমেছে প্রায় ১৪ কেজি। চিকিৎসকরা স্টেরয়েড দিচ্ছেন, তাতে সামান্য ইতিবাচক সাড়া মিলছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের হয়ে ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন শাপুর ৪৪টি ওয়ানডে ও ৩৬টি টি-টোয়েন্টি। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে আসার পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রেখেছেন রশিদ খান ও আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মিরওয়াইস আশরাফ। তাদের সহায়তায় দ্রুত ভিসা হয়। গত ১৮ জানুয়ারি দিল্লিতে পৌঁছান তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও সাবেক সতীর্থ আসগর আফগান।

শাপুরের ছোট ভাই ঘামাই জাদরান জানান, শুরুতে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে টিবি হয়ে মস্তিষ্কে ছড়ায়। ডেঙ্গু আরও জটিলতা বাড়ায়। এই কঠিন সময়ে আফগান ক্রিকেট পরিবার তার পাশে দাঁড়িয়েছে। রশিদ খান, অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদীসহ সতীর্থরা নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন। দিল্লিতে গিয়ে দেখা করে গেছেন তরুণ স্পিনার এএম গজনফার।