তীব্র দাবদাহ আর লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ বগুড়ার জনজীবন
ফাইল ছবি
একদিকে তীব্র দাবদাহ অন্য দিকে ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং। ফলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বগুড়ার জনজীবন। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় এমন ভোগান্তি।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ডামাডল শেষ হলে জ্বালানির সংকট কমে আসবে। তখন চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
জানা যায়, টানা কয়েক দিন ধরে বগুড়ায় প্রচণ্ড দাবদাহের সঙ্গে লোডশেডিং বেড়েছে। যার ফলে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানে ঘনঘন বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করছে। এতে করে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ শহর এবং গ্রামের মানুষ। দিনে ৪ থেকে ৫ বার, আবার কোন কোন এলাকায় পাঁচ থেকে ছয়বারও বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। একটানা দুই থেকে ৩ ঘণ্টার বেশিও লোডশেডিং হচ্ছে কোথাও। এতে কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজে চরম ব্যাঘাত ঘটছে।
লোডশেডিং এর ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশু, শিক্ষার্থী ও রোগীদেরও। বাইরের কড়া রোদ আর ঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে ঠিকমতো ঘুমাতেই পারছেন না তারা। ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘুমও ভেঙে যাচ্ছে তাদের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা। ছায়া পেলেই সেই স্থানে দাঁড়িয়ে শরীরকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করছেন অনেকেই।
কাহালু উপজেলার পাইকর গ্রামের কৃষক এনামুল হক জানান, দিনে-রাতে গড়ে ৬ থেকে ৭ বার লোডশেডিং হচ্ছে। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের ফলে বোরো আবাদে সঠিকভাবে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে করে বোরো আবাদ হুমকির মুখে পড়ছে। বিদ্যুতের লুকোচুরিতে রাতে ঠিকমত ঘুম হয় না। পড়াশুনায় মনোযোগী হতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই (নেসকো) এর প্রকল্প পরিচালক হামিদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ, শেরপুর ও সদর এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৯৫ মেগাওয়াট। সেখানে পাওয়া গেছে ৭৫ মেগাওয়াট। চাহিদার চেয়ে ঘাটতি রয়েছে ২০ মেগাওয়াট। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে চাহিদা ৫০১ মেগাওয়াট। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৪২৯ মেগাওয়াট। ফলে এখানেও ৭২ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে।