চট্টগ্রামের ঘটনা নিয়ে যা বললেন শিবির সভাপতি সাদ্দাম
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম
ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে ছাত্রদল আবারো ক্যাম্পাসে অপরাজনীতির চর্চা শুরু করেছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতির দেয়ালে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে চলা সংঘর্ষ নিয়ে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে শিবির সভাপতি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে টানানো শিবিরের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। জুলাইকে নিয়ে, শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে আঁকা গ্রাফিতি মুছে ফেলে আপত্তিকর শব্দ লেখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ জানিয়ে আসার সময় সেখানে ছাত্রদলের লোকজনের সঙ্গে তর্ক হয়। শিক্ষকরা এসে শিবিরের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেন। এ সময়ও ছাত্রদল হামলা করে, ঠেকাতে যাওয়া শিক্ষকদেরও আহত করা হয়েছে। বিকেলে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মিছিল বের করলে সেখানেও ভাড়া করা সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা করা হয়। এ হামলায় বেশ কয়েকজন শিবির কর্মী আহত হয়েছেন। আমরা আশা করি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’
অভিযোগ করে সাদ্দাম বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো ঘটনা এবং বিএনপির লুটপাট-অপকর্ম ঢাকতে তাদের নির্দেশে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির পদধারী লোকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হচ্ছে, প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।’
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতির দেয়ালে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যকার উত্তেজনা গড়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। মঙ্গলবার দুপুরে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিকেলে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিকেল ৪টার দিকে নগরের নিউমার্কেট মোড় থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সিটি কলেজের দিকে অগ্রসর হন। এ সময় কলেজের সামনে আগে থেকে অবস্থান নেয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দিলে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এ সময় উভয় পক্ষকে মাথায় হেলমেট পরে এবং হাতে কিরিচসহ অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে দেখা যায়। এছাড়া একে অপরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। সংঘর্ষের জেরে আশপাশের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।