অভিষেক শর্মার ১৩৫ রানের ঝড়ে উড়ে গেল দিল্লি
অভিষেক শর্মা
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) অভিষেক শর্মার ব্যাটিং ঝড়ে দিল্লি ক্যাপিটালসকে উড়িয়ে দিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। অভিষেকের অপরাজিত ১৩৫ রানের অসাধারণ ইনিংসে ভর করে ২৪২ রানের পাহাড় গড়ে সহজ জয় তুলে নিয়েছে হায়দরাবাদ। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অভিষেক ছুঁয়ে ফেলেছেন বিরাট কোহলির রেকর্ড, ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ শতকের তালিকায় এখন তারা সমান। ইনিংসটিতে ১০টি ছক্কা মেরে নিজেরই গড়া হায়দরাবাদের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন তিনি।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে তুলনামূলক ধীর শুরু করেছিল হায়দরাবাদ। প্রথম তিন ওভারে আসে ২৬ রান। তবে চতুর্থ ওভার থেকেই গিয়ার বদলান অভিষেক। লুঙ্গি এনগিডি ও নীতিশ রানাকে টার্গেট করে দ্রুত রান তোলার পথে হাঁটেন তিনি। পাওয়ারপ্লের শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৬৭ রান, যা তাদের মানদণ্ডে ধীর হলেও ভিত্তিটা হয়ে যায় মজবুত।
ট্রাভিস হেড আউট হওয়ার পর ইশান কিশানকে সঙ্গে নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন অভিষেক। কুলদীপ যাদবের এক ওভারে ২২ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় হায়দরাবাদ। ৪৭ বলে শতক পূর্ণ করা অভিষেক এরপরও আক্রমণ চালিয়ে যান, যদিও শেষ দিকে কিছুটা ধীর হয়ে পড়েন।
শেষ পাঁচ ওভারে হেনরিখ ক্লাসেনের ঝড়ো ব্যাটিং (১৩ বলে ৩৭) এবং কিশানের দ্রুত ২৫ রানের ইনিংসে দলীয় সংগ্রহ পৌঁছে যায় ২ উইকেট হারিয়ে ২৪২ রানে, চলতি মৌসুমের অন্যতম বড় সংগ্রহ।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে দিল্লি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। অধিনায়ক লোকেশ রাহুল ও নীতিশ রানা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় রানরেট ক্রমেই বেড়ে যায়।
মাঝের ওভারেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। ইশান মালিঙ্গা ও সাকিব হোসেন টানা উইকেট নিয়ে দিল্লির সম্ভাবনা শেষ করে দেন। মালিঙ্গা চার উইকেট নিয়ে আবারও নিজেকে প্রমাণ করেন, আর দিলশান মাদুশঙ্কার সুইং বোলিং শুরুতেই চাপ তৈরি করে দেয়। শেষদিকে হার্শ দুবের তিন উইকেটে দ্রুত গুটিয়ে যায় দিল্লির ইনিংস। বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেয় হায়দরাবাদ।