এসি চালানোর সময় রুমে এক বালতি পানি রাখেন তো? জানুন উপকারিতা
ফাইল ফটো
গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড গরমে এসির ঠান্ডা বাতাস যেমন অনেকটা স্বস্তি দিতে পারে, তেমনি এটি আপনার ত্বক ও স্বাস্থ্যের ক্ষতিও করতে পারে। একটি সহজ পদ্ধতি ব্যবহার করেই এই ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে পারেন। যে ঘরে এসি চালানো হয় সেই ঘরে এক বালতি পানি রাখুন, এটি প্রাকৃতিক হিউমিডিফায়ার হিসেবে কাজ করবে এবং ত্বকের শুষ্কতা, গলা ব্যথা ও সাইনাসের সমস্যা প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করবে।
এপ্রিল মাস থেকে তাপপ্রবাহ তীব্র হচ্ছে। বাইরের প্রচণ্ড রোদ আর ঘরের ভেতরের আর্দ্রতায় সবাই প্রচুর অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে। সামান্য স্বস্তির জন্য মানুষ ঘর ঠান্ডা রাখার বিভিন্ন উপায় প্রয়োগ করছে। উত্তপ্ত গরমের এই সময়ে যদি কোনো কিছু সবচেয়ে বেশি স্বস্তি দিতে পারে, তা হলো এসির ঠান্ডা বাতাস। এসি চালু থাকা ঘরে ঢুকলেই শরীর একেবারে ঠান্ডা হয়ে যায়, যা হয় স্বস্তিদায়ক। কিন্তু কখনো কি লক্ষ্য করেছেন যে অনেকক্ষণ এসি চালু রেখে বসে থাকার কারণে আপনার ত্বক রুক্ষ হয়ে যায় বা গলা শুকিয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়।
এমনটা হওয়ার কারণ হলো, এসি ঘর ঠান্ডা করার জন্য ঘরের সমস্ত আর্দ্রতা শুষে নেয়। এতে ঘরের বাতাস মরুভূমির মতো শুষ্ক হয়ে যায়, যা আপনার স্বাস্থ্য ও ত্বক উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে কোনো দামি ইলেকট্রিক মেশিন কিনতে হবে না, কেবল বাসায় থাকা এক বালতি পানিই আপনার এই সমস্যা সমাধান করতে পারে। ঘরোয়া এই পদ্ধতিটা খুবই কার্যকরী।
ঘরে এক বালতি পানি রাখলে তা ধীরে ধীরে বাতাসে বাষ্পীভূত হয়ে ঘরের আদ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতিটি একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। ঘরে এক বালতি পানি রাখার আরও কিছু সুবিধা হলো, ত্বক শুষ্ক থাকে, শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ হয়ে যায়, গলার শুষ্কতা কমে যায়, ঘুম ভালো হয়।
দীর্ঘক্ষণ এসি চললে ঘরের বাতাস ভারী হয়ে যায়। ওই ঘরে বেশিক্ষণ অবস্থান করলে মানুষের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, ঠোঁট ফেটে যায় এবং চোখে জ্বলতেও পারে, গলা এবং নাকও শুষ্ক হয়ে যায়। যাদের সাইনাস বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য শুষ্ক বাতাস বেশ ভোগান্তি সৃষ্টি করে। শুষ্ক বাতাসের কারণে কাঠের আসবাবপত্রে ফাটল ধরতে পারে, ঘরের গাছপালা শুকিয়ে যেতে পারে এবং এমনকি হালকা বৈদ্যুতিক শকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে কিন্তু মাত্র এক বালতি পানিই এই সমস্যাগুলো অনেকটা সমাধান করে দেয়।
এসি চালু রেখে ঘুমনোর সময় অনেকেরই গলা শুকিয়ে যায়, নাক বন্ধ হয়ে যায় বা ঘন ঘন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো ঘরের শুষ্ক বাতাস। ঘরে আর্দ্রতা ভারসাম্য থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ হয়, শরীর আরও স্বস্তি বোধ করে এবং ঘুম আরও গভীর ও আরামদায়ক হয়। এর মানে দাঁড়ায় এক বালতি পানি আপনার ঘুমের মানও উন্নত করতে পারে।
পদ্ধটি যেভাবে ব্যবহার করবেন : পানিভর্তি বালতি ঘরের এক কোনায় অথবা জানালার কাছে রাখুন, প্রতিদিন পানি পরিবর্তন করুন তা না হলে মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে, পানিতে লেবুর খোসা বা কয়েক ফোঁটা অ্যাসেনশিয়াল অয়েল মেশালে ঘরে সুগন্ধও ছড়াবে।