শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ
সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজটিও একই রকম প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েছিল। প্রথম দুই ম্যাচে দুই দল একটি করে ম্যাচ জেতায় অঘোষিত ফাইনালে রূপ নিয়েছিল শেষ ম্যাচটি। তাতে দারুণ এক জয়ে সিরিজ জেতা বাংলাদেশ আবার একই পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডে শেষে সিরিজে ১-১-এর সমতা।
চট্টগ্রামে আজ শেষ ওয়ানডে। সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ কি সিরিজ জয়ের হাসি হাসতে পারবে? সেই উত্তর জানতে একটু অপেক্ষা করা লাগলেও আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে নিজেরা ভালো অবস্থানে আছে বলেই বাংলাদেশ শিবিরের দাবি।
তবে প্রথম ম্যাচ হারা মেহেদী হাসান মিরাজের দল সিরিজ জেতার চাপও নিশ্চয়ই অনুভব করছে। কোনো রাখঢাক না রেখেই সেই কথা জানিয়েছেন পেস বোলিং কোচ শন টেইট, ‘আমার মনে হয় সিরিজ জেতার জন্য সব সময়ই চাপ থাকে।
চাপটা কেমন দেখায়, সেটা প্রত্যেকের জন্য আলাদা ব্যাপার হতে পারে। এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেট। এখানে সিরিজ জিততেই হবে, বিশেষ করে যখন আপনি আগের ম্যাচ জিতে ভালো অবস্থানে আছেন।‘ তবে দলের মানসিকতা যে ইতিবাচক, সেটিও জানিয়ে রেখেছেন টেইট, ‘আশা করি আগামীকাল (আজ) আমরা জিতব, দলের মানসিকতা এমনই।
’
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে জেতার পর দ্বিতীয় ম্যাচটি হেরেছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অবশ্য উল্টো। প্রথম ম্যাচ হারের পর স্বাগতিকরা সিরিজে ফিরেছে দ্বিতীয়টি জিতে। পার্থক্য আরো আছে। সেই সিরিজটি হয়েছিল একই ভেন্যু মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে।
কিউইদের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের পর শেষটি খেলতে বাংলাদেশ এখন চট্টগ্রামে। দুই ভেন্যুর চরিত্রও ভিন্ন। তবু দল এই মুহূর্তে স্বাভাবিক আছে বলেই মনে করেন টেইট, ‘আজকে ক্রিকেটারদের দেখে মনে হয়েছে তারা স্বস্তিতে আছে। আমরা গতকাল (গত পরশু) এখানে এসেছি। ছেলেদের বেশ স্বাভাবিক ও আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। প্রতিটি জয় থেকে কিছুটা আত্মবিশ্বাস আসে। আমাদের মধ্যে ম্যাচ জেতার তাড়না আছে। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
চট্টগ্রামে এমনিতে ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটই হয়ে থাকে। উইকেট এবারও যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশ ভালো মনে হয়েছে টেইটের কাছে। যদিও নিউজিল্যান্ডের এই দলটার বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা খুবই কম। এই সফরে প্রথমসারির ক্রিকেটারদের ছাড়াই খেলতে এসেছে তারা। এদিক থেকে উইকেট নিয়ে ধারণা কম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ড দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা উইলিয়াম ও’রক, ‘আমরা এটা নিয়ে অনেক কথা বলেছি। আমার মনে হয়, আমাদের দলে এটা একটা বেশ নতুন গ্রুপ, অনেকেই আগে এখানে আসেনি এবং বাংলাদেশে খুব বেশি খেলেওনি। তাই এই সফরে আসার সময় থেকেই আমরা জানতাম যে আমাদের নতুন নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। উইকেট আমাদের জন্য কী দিচ্ছে, সেটা দেখতে হবে।’
উইকেট নিয়ে ধারণা থাকলেও এখনো ভরসার জায়গা তৈরি করতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ধারাবাহিকতার অভাবই এর বড় কারণ। গত ম্যাচে ভালো করলেও তাই ব্যাটারদের ধারাবাহিকতাই চাওয়া টেইটের, ‘শেষ ম্যাচটা সত্যিই খুব ভালো ছিল। বাংলাদেশে স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রত্যাশা থাকে, মিডিয়া হোক, সাধারণ মানুষ হোক বা অন্য কেউ। সবাই চায় ব্যাটিং গ্রুপ সব সময় ভালো করুক। এটা বাস্তবসম্মত কি না, সেটা বলা কঠিন। কিন্তু আমরা শেষ ম্যাচে কিছু ভালো ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দেখেছি। ভালোভাবে ম্যাচ জিতেছি। এখন যা দেখতে চাই, তা হলো একটু বেশি ধারাবাহিকতা।’