পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ নিহত

পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ নিহত

প্রতিকি ছবি

 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পাওনা পাঁচ হাজার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় আহত করিম প্রামানিক (৬৫) ওরফে হাদু নামের এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে তার মৃত্যু হয়।  

এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রধান আসামি আনোয়ার মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিহত করিম প্রামানিক ওরফে হাদু উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বরাইদহ খন্দকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।  

জানা যায়, করিম প্রামানিকের বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৩) স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী আনোয়ার মোল্লার সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ওই কাজের সুবাদে আনোয়ার মোল্লার কাছে তাঁর পাঁচ হাজার টাকা পাওনা ছিল। গত ২১ এপ্রিল রাতে টাকা দেওয়ার কথা বলে আনোয়ার মোল্লা শফিকুল ইসলামকে বাড়িতে ডেকে নেন।

সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। শফিকুল সেখানে পৌঁছালে তাঁকে মারধর করা হয়। ছেলের চিৎকার শুনে করিম প্রামানিক এগিয়ে গেলে আনোয়ার মোল্লা তাঁর মাথায় লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় অন্য আসামিরাও তাকে মারপিট করে।

পরে স্থানীয় লোকজন এসে বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে করিম প্রামানিকের মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়। পরদিন চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বাড়িতে ফেরার পর বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. শাহাদত প্রামানিক বুধবার রাতে শেরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আনোয়ার মোল্লাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মইনুদ্দীন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি আনোয়ার মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।