কোটি টাকা খরচের সফর: শিকারে গিয়ে নিজেই শিকার

কোটি টাকা খরচের সফর: শিকারে গিয়ে নিজেই শিকার

ছবিঃ সংগৃহীত।

মধ্য আফ্রিকার দেশ গ্যাবনের লোপে ওকান্দা রেইনফরেস্টে শিকার করতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের শিকারি আর্নি ডোজিও (৭৫)।তিনি বিরল প্রজাতির অ্যান্টিলোপ ইয়েলো ব্যাকড ডুইকার শিকারের উদ্দেশ্যে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে একজন পেশাদার শিকারি গাইডও ছিলেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল জানায়, শিকারের সময় ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্যে হঠাৎ পাঁচটি মাদি হাতি ও একটি শাবকের মুখোমুখি হয়ে পড়েন ডোজিও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শাবক থাকলে হাতির দল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতির দলটি এতটাই আড়ালে ছিল যে ডোজিও ও তাঁর গাইড হঠাৎ করেই তাদের সামনে পড়ে যান। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই হাতিরা আক্রমণ শুরু করে।

এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা গাইড প্রথমে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তাঁর রাইফেল ছিটকে পড়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি অচল হয়ে পড়লে ডোজিও কার্যত একা হয়ে যান। তাঁর হাতে তখন ছিল একটি শটগান।

এরপর হাতির দল তাঁকে মাটিতে ফেলে পিষে হত্যা করে। পুরো ঘটনাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডোজিও দীর্ঘদিন ধরে শিকার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আফ্রিকার বিগ ফাইভ অর্থাৎ হাতি, সিংহ, চিতা, গন্ডার, মহিষসহ বহু প্রাণী শিকার করেছেন তিনি। তাঁর বাড়িতে ট্রফি হিসেবে সংরক্ষিত ছিল শতাধিক প্রাণীর মাথা।

তবে সমালোচনা থাকলেও তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি, ডোজিওর শিকার কার্যক্রম আইনসম্মত ও নির্ধারিত সীমার মধ্যেই ছিল।

গ্যাবনকে প্রায়ই আফ্রিকার শেষ এডেন বলা হয়।

দেশটির প্রায় ৮৮ শতাংশ এলাকা বনভূমিতে আচ্ছাদিত এবং এখানে প্রায় ৫০ হাজার বুনো হাতির বাস রয়েছে, যা বিশ্বের মোট হাতির বড় একটি অংশ।

ঘটনার পর একটি সাফারি কোম্পানি জানায়, ১৭ এপ্রিল এই দুর্ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সহায়তায় তাঁর মরদেহ ক্যালিফোর্নিয়ার লোডিতে পাঠানো হচ্ছে।

শিকারি হওয়ার পাশাপাশি আর্নি ডোজিও একজন কৃষি উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শিকারি মহলে শোক নেমে এসেছে।