নিত্যপণ্যের দাম চড়া, নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি

নিত্যপণ্যের দাম চড়া, নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি

ফাইল ছবি

জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন খরচ বাড়ায় বগুড়ার বাজারে সবজি, মাছ, ডিম ও অন্যান্য নিত্যপণ্যে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। যা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। এসব পণ্যের দাম ক্রেতাদের সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন বলে ভোক্তারা মনে করছেন।

জানা যায়, দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজারে উত্তাপ বেড়েই চলেছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া অনেক সবজির মৌসুম এখন শেষ হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে আবার সবজি উঠতে শুরু করবে। সব মিলিয়ে বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম হওয়ায় সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সঙ্গতি মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের সংকটের অযুহাতে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছেন। বাজারে প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন।

শুক্রবার বগুড়ার ফতেহ আলী, রাজাবাজার, কলোনী, খান্দার ও বকশি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুনের দাম বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০টাকা। যা কয়েকদিন আগে ৫০ থেকে ৬০টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি বরবটি ৮০টাকা, ঝিঙ্গা ৮০টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি রসুন ১০০টাকা ও আদা ১২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম বেড়ে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ভোজ্য তেল সয়াবিনের দামের উর্ধগতিতে অস্বস্তিতে ভূগছেন ক্রেতারা। বর্তমানে লুজ সয়াবিন তেল কেজিতে ২০  টাকা বেড়ে ২০৮ ও বোতলজাত সয়াবিন ১ লিটার বিক্রি হচ্ছে ২'শ টাকায়।

অন্যদিকে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে ছোট এবং বড় মাছের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা এর পেছনে সরবরাহ ঘাটতি ও জ্বালানিজনিত পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন। বাজারে বড় রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং শিং ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে ছোট চিংড়ি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং গলদা চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মুরগির বাজারেও একই চিত্র। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০টাকা কেজি, সোনালী মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৬০, দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি, খাসির মাংস ১১’শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ডিমের দাম বেড়ে প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৪২টাকায়। 

বগুড়ার ফতেহ আলী বাজারে বাজার করতে আসা আব্দুল হামিদ জানান, বাজার করতে এসে হতাশ হয়ে পড়েছি। নিত্যপণ্যের দাম এতো বেশি চিন্তাই করা যায়না। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দাম বৃদ্ধি পাওায় চাহিদার চেয়ে কম পরিমানে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছি। 
রাজাবাজার আড়ৎদার ও সাধারণ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাফয়েতুল ইসলাব বাবু জানান, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পরিবচন খরচ বেড়ে গেছে। যে কারণে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম একটু বেশি। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।