২০২৬ বিশ্বকাপে প্রাইজমানি বাড়ানোর ঘোষণা ফিফার

২০২৬ বিশ্বকাপে প্রাইজমানি বাড়ানোর ঘোষণা ফিফার

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তিন দেশে (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো) ছড়িয়ে থাকা ম্যাচ, ভ্রমণ ও থাকার উচ্চ খরচ এবং করের জটিলতায় অনেক জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন চিন্তিত ছিল। ফিফা এখন তাদের উদ্বেগ মেনে নিয়ে প্রাইজ মানি ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, পুরো ফুটবলের উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফিফা মূলত সম্মত হয়েছে প্রাইজ মানি ও অংশগ্রহণ ফি বৃদ্ধি করতে। এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, এই নতুন আর্থিক প্যাকেজ আগামী মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাবেবিশ্বকাপে প্রাইজমানি বাড়ানোর ঘোষণা ফিফার। ইংলিশ এফএসহ ইউরোপের বড় ফেডারেশনগুলো আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল যে, বর্তমান কাঠামোয় অনেক দল আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়তে পারে। 

কাতার ২০২২-এর মতো কম্প্যাক্ট ভেন্যুর পরিবর্তে ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে তিনটি দেশজুড়ে। ভ্রমণ, হোটেল, লজিস্টিক্স সবকিছুর খরচই অনেক বেশি। এছাড়া ফিফা সব দলের জন্য একসঙ্গে কর ছাড় (ট্যাক্স এক্সেম্পশন) পায়নি। ফলে বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন করের হার (ফ্লোরিডায় ০% থেকে ক্যালিফর্নিয়ায় ১৩.৩%) দলগুলোকে বাড়তি চাপে ফেলছে।

অনেক ফেডারেশন ফিফাকে জানিয়েছিল, সেমিফাইনালে পৌঁছালেই তারা খরচ তুলতে পারবে। তার আগে বিদায় নিলে লোকসান অনিবার্য।

ফিফার আর্থিক অবস্থান খুবই শক্তিশালী। ২০২৩-২০২৬ চক্রে তারা প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের প্রত্যাশা করছে, যার মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকেই আসবে ৯ বিলিয়ন ডলার। এই সামর্থ্য ব্যবহার করে ফিফা ডিসেম্বর ২০২৫-এ ঘোষিত ৭২৭ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজ পুল আরও বাড়াবে।

বিজয়ী দলের প্রাইজ (আগে ৫০ মিলিয়ন ডলার) বাড়ানো হবে। প্রতি দলের ন্যূনতম পেমেন্ট (১০.৫ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১.৫ মিলিয়ন প্রস্তুতি ভাতা) নিয়েও পর্যালোচনা চলছে।

শুধু প্রাইজ মানি নয়, ফিফা ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নেও বেশি বিনিয়োগ করবে। ফিফা ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ফান্ডিং বাড়ানো হবে। মহাদেশীয় কনফেডারেশনগুলোকে আগের পরিকল্পিত ৬০ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি দেওয়া হবে।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ৪৮টি দল অংশ নেবে, মোট ১০৪টি ম্যাচ খেলা হবে। প্রথমবারের মতো তিন দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে। এতে বাণিজ্যিক স্কেলও অনেক বড় হবে, যা ফিফাকে এই বাড়তি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।