বাগেরহাটে টানাবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে জনজীবন

বাগেরহাটে টানাবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে জনজীবন

সংগৃহীত ছবি

লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পৌরসভাসহ জেলার নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। 

জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মোংলা আবহাওয়া অফিস। টানা বৃষ্টির ফলে বাগেরহাট শহরের রাস্তাঘাট, অলিগলি ও বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় কর্মজীবী মানুষদের দৈনন্দিন কাজে বের হতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বাগেরহাট পৌরসভার বাসিন্দা আল আমিন খান সুমন বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা বৃষ্টিতে শহরের কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজার হাঁটু পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বাধ্য হয়ে নোংরা পানিতে দাঁড়িয়ে বাজার করতে হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাট পৌরসভা ভবনের সামনের সড়কটিও হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে, এতে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

ইজিবাইক চালক রুস্তম ফরাজি বলেন, বৃষ্টিহলেই পৌরসভার অধিকায়শ রাস্তাটি হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ইজিবাইকের মোটর নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ভাঙা রাস্তার কারণে ইজিবাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা মেরামতে আয়ের একটিবড় অংশ ব্যয় করতে হয়।

এদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কৃষিখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষকরে বোরোধান ও মৌসুমি সবজি চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। জমিতে পানি জমে থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষিবিভাগ ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরূপনে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার অধিকাংশ বোরো চাষি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এছাড়া পানি জমে থাকায় মৌসুমি সবজি চাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কৃষকদের ক্ষতির পরিমান আরও বাড়বে।

অপরদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতে মোংলা বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হলেও বন্দরের স্বাভাবিক রয়েছে বলে মোংলা বন্দরের উপ-ব্যবস্থাপক মো.মাকরুজ্জামান বলেন, জেলাজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও মোংলা বন্দরেরপণ্য ওঠানামাসহ সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে বন্দওে কয়লা, সারসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ৭টি বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজও চলমান রয়েছে।

বাগেরহাট পানিউন্নয়ন বোর্ডেও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বৃষ্টিপাতে জেলার সব নদ-নদীর পানির স্তর কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।