অতিবৃষ্টিতে রংপুরে ফসলের ক্ষতির শঙ্কা
সংগৃহীত ছবি
অতি বৃষ্টিতে রংপুর অঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষি অফিস বলছে, রংপুর জেলায় ফসলের ক্ষতি না হলেও, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলায় সামান্য কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে আবহাওয়া ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসে এই অঞ্চলে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল ১১০ মিলিমিটার। সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ২০০ মিলিমিটারের ওপরে। এছাড়া কয়েকদফা ঝড়ো হওয়া বয়ে গেছে। ফলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলমান আবহাওয়ায় নীলফামারীতে ১২ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টা ৭ হেক্টর এবং বেরোধান ৫ হেক্টর। এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলায় কিছুটা ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও আঞ্চলিক কৃষকের অফিসের হাতে এসে পৌঁছায়নি।
এদিকে রংপুরের কাউনিয়া গঙ্গাচড়া উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর উজানে ভারী বর্ষণের কারণে পানির স্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল ও চরের কৃষকরা পড়েছেন চরম উৎকণ্ঠায়। মিষ্টি কুমড়া, লাউ, পিয়াজ, রসুন, ভুট্টা, বাদাম, মরিচ ও বোরো ধানসহ বিভিন্ন আবাদি ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে।
কাউনিয়া উপজেলার ঢুসমারা চরের কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আমাদের সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে অনেক জমিতে পানি জমে ধান, পিয়াজ, মরিচ ও কুমড়ার ক্ষতি হয়েছে।
জানতে চাইলে কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার জানান, চরের জমিতে পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলা এবং পিয়াজ-রসুন তুলে নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনা যায়।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলে কয়েকদিন থেকে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করলেও, ফসলের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। নীলফামারীতে ১২ হেক্টর এবং কুড়িগ্রাম জেলায় সামান্য কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে।