গাজাগামী নৌবহরে ইসরাইলি অভিযানে ৩১ জন স্বেচ্ছাসেবী আহত

গাজাগামী নৌবহরে ইসরাইলি অভিযানে ৩১ জন স্বেচ্ছাসেবী আহত

সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের সময় অন্তত ৩১ জন কর্মী আহত হয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, একটা নৌকায় তাদেরকে প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে আটকে রেখে ব্যাপক মারধর করা হয়, তাদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দেয়া হয়নি এবং ভেজা মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়। ফ্লোটিলার কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গাজা উপত্যকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিয়া আক্রমণের শিকার হয়। গাজা উপকূল থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে এবং গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের পশ্চিমে অন্তত এক হাজার কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই অভিযান চালায় ইসরাইলি বাহিনী।

৫৮টি নৌকার মধ্যে ২২টি নৌকা থেকে প্রায় ১৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবীকে আটক করা হয়। ফ্লোটিলার ওপর এই আকস্মিক হামলায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। এই ঘটনাকে ডাকাতি অভিহিত করে নিন্দা জানায় গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। তবে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতেই আগাম অভিযান চালানো হয়।

বিবিসি জানিয়েছে, আটক হওয়া ১৭৫ জন কর্মীর মধ্যে দুজন ছাড়া বাকিদের গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ছেড়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরাইলে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে নেতানিয়াহু প্রশাসন।

এদিকে সুমুদ ফ্লোটিলা এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলের হামলায় তাদের অন্তত ৩১ জন কর্মী আহত হয়েছেন। বন্দিদের একটি ইসরাইলি নৌযানে প্রায় ৪০ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং তাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়। 

স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, তাদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দেয়া হয়নি এবং ভেজা মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়। ফ্লোটিলার একজন স্বেচ্ছাসেবীর বক্তব্য, ‘আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, আমার নাক সম্ভবত ভেঙে গেছে। আমার পাঁজরে ব্যথা; হয়তো সেগুলোও ভেঙে গেছে। আমার ঘাড়ও। তারা আমাদের লাথি মেরেছে, ঘুষি মেরেছে এবং মাটিতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেছে, এমনকি আমরা লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর শব্দও শুনেছি।’

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা কমিটি জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে একাধিক দেশের স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন। তাদের মধ্যে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া থেকে চারজন করে; ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনজন করে; কানাডা, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, যুক্তরাজ্য, কলম্বিয়া ও জার্মানি থেকে দুজন করে; এবং হাঙ্গেরি, ইউক্রেন, ফ্রান্স, পোল্যান্ড ও পর্তুগাল থেকে একজন করে রয়েছেন।

আহতদের মধ্যে একজনের তুরস্ক-জার্মান দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে এবং বাকি তিন যাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। 

মানবিক সহায়তা বহনকারী নৌবহরটির প্রথম জাহাজগুলো গত ১২ এপ্রিল বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর মূল নৌবহরটি ২৬ এপ্রিল ইতালীয় দ্বীপ সিসিলি থেকে যাত্রা করে, যার লক্ষ্য ছিল গাজায় ইসরাইলের বছরের পর বছর ধরে চলা অবরোধ ভাঙা। 

ইসরাইল ২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকার ওপর একটি মারাত্মক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যার ফলে এই অঞ্চলের ২০ লক্ষাধিক মানুষ অনাহারের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইল ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজার ওপর একটি নৃশংস আক্রমণ শুরু করে, যা টানা দুই বছর ধরে চলছে। এতে ৭২,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত, ১,৭২,০০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।