ইটভাটায় পুড়ল কৃষকের ১০ হাজার একর জমির আধপাকা ধান

ইটভাটায় পুড়ল কৃষকের ১০ হাজার একর জমির আধপাকা ধান

ফাইল ছবি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কয়েকটি ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে প্রায় ১০ হাজার একর জমির আধপাকা ধান পুড়ে গেছে। এ বছর অন্তত ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ইটভাটা বন্ধের দাবি তাদের।

এ দিকে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের পুষিয়ে দেয়ার আশ্বাস কৃষি কর্মকর্তার। আর তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাইছেন উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সোনালি ধানের জমির চারপাশে অসংখ্য ইটভাটা। আর এসব ভাটার কারণে প্রতিবছর পুড়ে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। এবারও পড়েছে প্রায় ১০ হাজার একর জমির আধপাকা ধান। ভাটার আগুনে পুড়ল কৃষকের কপাল।

সূত্র জানায়, প্রতি বছর কমবেশি ক্ষতি হলেও এ বছর ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ক্ষতির পরিমাণটা যেন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কোট বহুরিয়া, বহুরিয়া চড়পাড়া, বুধিরপাড়া, মন্দিরাপাড়া, সরিষাদাইড় ও ভাওড়া এসব এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ফসলি জমির বুকে ইটভাটা স্থাপন করেছে প্রভাবশালী মহল। এফবিসি, আরইউবি, সান, হাদি এবং এনএসটি ব্রিকসসহ ১৪টি ইটভাটা রয়েছে পাশাপাশি জায়গায়।
এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফসল দেখে আশায় বুক বেঁধেছিলো কৃষকরা। কিন্তু একত্রে পাঁচটি ভাটা একসঙ্গে বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেয়। ফলে নিমিষেই স্বপ্ন যেন পুড়ে ছাই হয়ে যায় স্থানীয় কৃষকদের। ফসলি জমি থেকে মাটি কেনার জন্যই ইচ্ছাকৃতভাবে বিষাক্ত গ্যাস ছেড়েছে ইটভাটা কর্তৃপক্ষ দাবি কৃষকদের।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন, প্রতি বছরই ধানের কম বেশি ক্ষতি হয়। এ বছর ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ আকারে রূপ নিয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার প্রায় ১০ হাজার একর ধান পুড়ে চিটা হয়েছে। এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা। বারবার ভাটা মালিকদের অভিযোগ করেও এর কোনো সমাধান পাননি তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি কয়েকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে ১০ হাজার একর জমির ধান পুড়ে যাওয়ার লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা প্রশাসন বরাবর। দ্রুত ক্ষতিপূরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার চান মওয়া শিকদার বলেন, ‘প্রতিবছর এভাবে গ্যাস ছেড়ে ধানের ক্ষতি করা হয়। এ বছর অন্তত ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তার।

ভাটার মালিক আব্দুল জব্বার ও কদম আলী ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এই ইটভাটাগুলোর অনুমোদন না থাকলেও আদালতে রিটের মাধ্যমে ভাটা চালানো হচ্ছে। ইটভাটার কারণে ধানের ক্ষতি হয়েছে।’

ফসলি জমির পাশে ইটভাটা তৈরির প্রত্যয়ন দেয়া হয় না, কেউ দিয়ে থাকলে সেটা ঠিক নয়। কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রণোদনার আশ্বাস উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবিব জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।