‘ম্যানার শেখানোর’ নামে রাবিতে র‌্যাগিং; লিখিত অভিযোগ

‘ম্যানার শেখানোর’ নামে রাবিতে  র‌্যাগিং; লিখিত অভিযোগ

‘ম্যানার শেখানোর’ নামে রাবিতে র‌্যাগিং; লিখিত অভিযোগ।। ফাইল ছবি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন সিনিয়রের বিরুদ্ধে র‍্যাগিং, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। একই বিভাগের প্রথম বর্ষের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) কয়েকজন শিক্ষার্থী এই অভিযোগ করেন।

‎রোববার (৩ মে) বিকেলে একই বিভাগের প্রথম বর্ষের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) ভুক্তভোগী ১০ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে অভিযোগপত্র জমা দেন।

‎অভিযুক্তরা হলেন- ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তানভীরুল ইসলাম ইমন, আফতাব ইমন, সজিব রহমান, অলি আহমেদ, রিওয় খান, তাসিবুল ফাহাদ, মাহফুজুল ইসলাম নয়ন, ফরহাদ রেজা ইমন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নাফিউল ইসলাম অনিক এবং ভুক্তভোগীদের সহপাঠী নোমায়েত ইসলাম মারুফ।

‎অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়মিতভাবে তাদেরকে বিনোদপুর এলাকায় ডেকে নিয়ে তথাকথিত ‘ম্যানার শেখানো’র নামে অপমানজনক আচরণ করা হতো। বারবার নিজের পরিচয় দেওয়া, বিকৃত কবিতা আবৃত্তি, অকারণে গালিগালাজ, মারধরের হুমকি এবং খাতায় একাধিক পৃষ্ঠা ধরে সিনিয়রদের নাম লিখতে বাধ্য করা হতো। এ ছাড়াও সিনিয়রদের ডাকে সাড়া না দিলে হুমকি এবং তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল অভিযুক্তরা।

‎ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে গত বছরের নভেম্বরে বিভাগে এক শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে করা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে ভুক্তভোগীরা জানান, সে সময় এসব নতুন শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক সেই আন্দোলনে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। সেই আন্দোলনে নিরপেক্ষ থাকতে চাইলে তাদের পুরো ব্যাচকে ‘বয়কট’ করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করে তারা।

‎লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত শনিবার বিকালে বিনোদপুর এলাকায় ডেকে নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে আবারও নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সেই শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত না হলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর রোববার একটি মিথ্যা নোটিশ দিয়ে ভুক্তভোগী এসব শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে ডেকে এনে সিনিয়রদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। উপস্থিত না হলে বিভাগ ও ব্যাচ থেকে ‘বয়কট’ করার হুমকির কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

তবে র‍্যাগিংয়ের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত নাফিউল ইসলাম বলেন, ‘র‍্যাগিং হয়েছে এমন কোনো বিষয় সম্পর্কে আমি অবগত নই।’

আরেক অভিযুক্ত তাসিবুল ফাহাদ বলেন, ‘আমরা জুনিয়র ও সিনিয়র সবাই একসঙ্গে বসেছিলাম। আমরা কোনো র‍্যাগ দেইনি, আমরা সিনিয়র হিসেবে তাদের নবীনবরণের বিষয়ে আলোচনার জন্য বসেছিলাম। র‍্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে র‍্যাগিংয়ের ধরন ও গভীরতা যাচাই করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।