হরমুজ ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, সংযম ও কূটনীতির আহ্বান জানাল সৌদি আরব
সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। আমিরাতে ইরানের গতকালের সামরিক হামলা এবং তার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে রিয়াদ সব পক্ষকে সংযম দেখানো এবং কূটনৈতিক পথে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অঞ্চলে যে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন জাহাজ ও আমিরাতকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করা হয়। সৌদি আরব মনে করে, এই সংকট আরও বাড়লে তা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
বিবৃতিতে রিয়াদ পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সব পক্ষকে উত্তেজনামূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।
সৌদি আরব হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার ওপরও জোর দিয়েছে। তাদের মতে, কোনো ধরনের বাধা ছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া জরুরি। সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের আগে হরমুজে যে পরিস্থিতি ছিল, সেটিই পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, সোমবার ইরান থেকে ছোড়া ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। এসব হামলায় তিনজন মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন।
একই দিনে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জানান, ইরান সোমবার সকালবেলায় মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা জবাব দিয়ে ইরানের ছয়টি ছোট নৌকা ধ্বংস করে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সংযম ও কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে এই উত্তেজনা পুরো অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।