দিনাজপুরে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট, চরম বিপাকে কৃষক
সংগৃহীত ছবি
দিনাজপুর অঞ্চলে এবার ইরি-বোরো ধান কাটার মৌসুমের ধান কাটা শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিক পেলেও খরচ দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ। অন্যদিকে হারভেস্টার মেশিনের সংকট থাকায় পাওয়া গেলে বেশি খরচ দিতে হচ্ছে। এরপর আবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বৃষ্টি বাধ সাদছে। এসব প্রতিবন্ধকতায় চরম বিপাকে কৃষকরা।
এ পর্যন্ত জেলায় ৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে ধান কাটাই মাড়াই ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষকরা জানায়, চলতি মৌসুমে বোরো ধানে পোকার আক্রমণ কম, বৃষ্টির কারণে সেচ কম দিতে হয়েছে। আবার অসময়ে বৃষ্টি আর বাতাসের কারণে ধান পড়ে যাওয়ায় ফলন কম হয়েছে। পাশাপাশি ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি বেশি। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ও জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটাই মাড়াই করাতে দ্বিগুণ খরচ গুনতে হচ্ছে। শ্রমিক দিয়ে ধান কাটলে বিঘায় এক বস্তা ধান বেশি ও খড় শতভাগ পাওয়া যায়। অপরদিকে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার কারণে একবস্তা ধান কম পাওয়া যায় ও খড় নষ্ট হয়ে যায় বলেও জানান তারা।
সুন্দরবন গ্রামের কৃষক দবিরুল ইসলাম বলেন, এবার ৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। সংকটের মধ্যে খুব কষ্ট করে শ্রমিক সংগ্রহ করলেও একর প্রতি ১৬ হাজার টাকায় বাধ্য হয়ে ধান কাটতে দেওয়া হয়েছে। না হলে পাকা ধান ঝরে পড়ছে। হারভেস্টারেও একই খরচ।
জামগ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, গতবার হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটতে নিয়েছিল একর প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এবার তা দিতে হচ্ছে ১৬ হাজার টাকা। কৃষি শ্রমিক ও হারভেস্টারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
সদরের কমলপুর ইউপিতে হারভেস্টার মেশিন নিয়ে এসেছেন নাটোরের একতারুল ইসলাম এবং সিলেটের কাশেম আলী।তারা জানান, সরকার নতুন করে ভর্তুকি দিয়ে হারভেস্টার মেশিন দিচ্ছে না। মেশিনগুলো পুরাতন হয়ে যাওয়ায় প্রায় সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর যন্ত্রাংশ পাওয়া গেলেও দাম বেশি। তেলের দাম বেড়েছে। মেশিনর সঙ্গে থাকা শ্রমিকের দাম বেশি, আবার পানি থাকায় চালক ছাড়াও একজনের জায়গায় দুইজন শ্রমিক নিতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে বজ্রপাতের ভয়ে জমিতে কেউ হারভেস্টার চালাতে রাজি হয় না। বিভিন্ন কারণে খরচ বেড়েছে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০ টন। এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। দিনাজপুর জেলায় সরকারি ভর্তুকির হারভেস্টার মেশিন রয়েছে ৫৯৪টি।