যশোরে হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

যশোরে হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

প্রতিকি ছবি

যশোরের অভয়নগর উপজেলার ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।  

সোমবার দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আসামি শাহ মাহমুদ যশোর শহরের ওই বাসায় আত্মগোপন করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

অভয়নগর থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের একটি যৌথ দল ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়।  

ব্যবসায়ী আনিছুর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গুয়াখোলা পীরবাড়ি এলাকার শাহ মোহ. জোনায়েদের ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, মূলত নিহত ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকানঘর ভাড়া নেওয়া সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়। তবে এর পেছনে আরও কোনো কারণ বা নেপথ্যে কোনো মদদদাতা রয়েছে কিনা, তা জানতে অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে অভয়নগর থানার গুয়াখোলা পীরবাড়ি মসজিদের পশ্চিম পাশে নিজের নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিলেন ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান। এ সময় শাহ মাহমুদ, তার সহযোগী নাসিরসহ আরও ২-৩ জন সেখানে হানা দেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহ মাহমুদ তার কোমরে লুকিয়ে রাখা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে সজোরে কোপ দেন। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

অবস্থার আরও অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৭ মে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ প্রথমে মনির হোসেন নামে একজনকে আটক করেছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ মাহমুদ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা এবং ভারতে পালানোর পরিকল্পনার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) মুন্না বিশ্বাস এবং অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম