মালদ্বীপে ভয়াবহ স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনা, নিখোঁজ চার ইতালি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার

মালদ্বীপে ভয়াবহ স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনা, নিখোঁজ চার ইতালি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার

সংগৃহীত ছবি

মালদ্বীপে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে নিখোঁজ চার ইতালীয় ডুবুরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ওই দুর্ঘটনার পর দেশটির ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ একক ডাইভিং দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, ফিনল্যান্ড ও মালদ্বীপের অত্যন্ত প্রশিক্ষিত একটি যৌথ উদ্ধারকারী দল ভায়াভু অ্যাটলের একটি গুহার ভেতর থেকে মরদেহগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে। গুহাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ মিটার (১৯৭ ফুট) গভীরে। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মরদেহগুলো গুহার তৃতীয় এবং সবচেয়ে গভীর অংশে ছিল, যা প্রবেশমুখ থেকে অনেক দূরে।

মালদ্বীপ সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ হোসেন শরীফ জানান, মরদেহগুলো উদ্ধারে আরও কয়েক দিন ধরে অভিযান চালানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুটি মরদেহ মঙ্গলবার এবং বাকি দুটি পরদিন উদ্ধার করা হবে। দুর্ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার গুহার প্রবেশমুখের কাছ থেকে দলের আরেক সদস্য, ডাইভিং প্রশিক্ষক ও নৌযান পরিচালনাকারী জিয়ানলুকা বেনেদেত্তির মরদেহ ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছিল।

এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন ইতালির জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনিকা মন্টেফালকোনে ও গবেষক মুরিয়েল ওডেনিনো। তারা মালদ্বীপে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা করছিলেন। অধ্যাপকের মেয়ে ও শিক্ষার্থী জর্জিয়া সোম্মাকাল এবং সদ্য স্নাতক হওয়া ফেদেরিকো গুআলতিয়েরিও দলে ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে শনিবার মালদ্বীপের এক উদ্ধারকারী ডুবুরি, স্টাফ সার্জেন্ট মোহাম্মদ মাহদি প্রাণ হারান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আট সদস্যের একটি দল উদ্ধারকাজে নামলে তিনি আর পানির ওপরে উঠতে পারেননি।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় রাজধানী মালে থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের ওই এলাকায় সমুদ্র উত্তাল ছিল। যাত্রীবাহী নৌযান ও জেলেদের জন্য সতর্কতাও জারি ছিল। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।