২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা আর্সেনালের

২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা আর্সেনালের

সংগৃহীত ছবি

শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকতে জিততেই হতো ম্যানচেস্টার সিটির। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর, মরিয়া হয়ে চেষ্টা করল তারা।

সুযোগ পেল ঢের, শেষ সময়ে গিয়ে একটি গোলও পেল দলটি। কিন্তু তা যথেষ্ট হলো না। তাদের হোঁচটে ২২ বছরের খরা ঘুচিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতল আর্সেনাল।

ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে শিরোপা পুনরুদ্ধারের আশা শেষ হয়ে গেল পেপ গার্দিওলার দলের।

ইলি জুনিয়র কোপির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, সমতা টানেন আর্লিং হলান্ড।

প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে এই মাঠে ২-১ গোলে হেরেছিল সিটি। এবার স্কোরলাইনে হার এড়াতে পারলেও, এই ড্র তাদের জন্য অনেক বড় হতাশার। খুব কাছে গিয়েও যে আরেকটি ট্রফিতে চুমু আঁকা হলো না।

প্রথমার্ধে ইলি জুনিয়র কোপির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচজুড়ে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে সিটি। সুযোগ তৈরি করেছে ভুরি ভুরি। একদম শেষ মুহূর্তে আর্লিং হলান্ড গোল করে সমতা ফেরালেও তা সিটির শিরোপা স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

এই ড্রয়ের পর ৩৭ ম্যাচ শেষে সিটির পয়েন্ট ৭৮। সমান ম্যাচ খেলে আর্সেনাল এগিয়ে ৪ পয়েন্টে।

লিগে দুই দলেরই মাত্র একটি করে ম্যাচ বাকি। ফলে গাণিতিকভাবেই সিটির আর আরতেতার দলকে ছোঁয়া সম্ভব নয়। ২০২৫/২৬ মৌসুমের শেষ দিনে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে যখন আর্সেনাল মাঠে নামবে, তখন তাদের নামের পাশে জ্বলজ্বল করবে ‘চ্যাম্পিয়ন’ তকমা। এটি গানারদের ইতিহাসের ১৪তম লিগ শিরোপা, যা ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

দারুণ ব্যাপার হচ্ছে, আরতেতার এই উৎসবে যিনি অলক্ষ্যে থেকে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করলেন, তিনি আর কেউ নন, আরতেতার ছোটবেলার বন্ধু বোর্নমাউথের কোচ আন্দোনি ইরাওলা। সিটিকে রুখে দিয়ে তিনি কেবল ছোটবেলার বন্ধুকেই এক বিশাল উপহার দেননি, নিজের ক্লাবের জন্যও ইতিহাস লিখেছেন। এই ১ পয়েন্টের সুবাদে আগামী মৌসুমে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলা নিশ্চিত করল বোর্নমাউথ। এমনকি তাদের সামনে এখন চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

ম্যাচের শেষ দিকে সিটির গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল সমবেত কণ্ঠের আকুল এক প্রার্থনা—‘আর একটা বছর, আর একটা মাত্র বছর!’ ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা হয়ত পেপ গার্দিওলাকে আরও একটা বছর ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা হলো, সিটির ডাগআউটে স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ডের অধ্যায় এখন স্রেফ ‘আর একটা ম্যাচের’। আর মৌসুমের সেই শেষ ম্যাচটি সিটির জন্য রূপ নিয়েছে স্রেফ আনুষ্ঠানিকতায়।

হ্যাঁ, সিটির সমর্থকেরা নিশ্চয়ই শেষ ম্যাচটিকে উৎসবের মঞ্চ বানাবেন। ইংলিশ ফুটবলে গত এক দশকে গার্দিওলা যে ফুটবলীয় বিপ্লব ঘটিয়েছেন, যে অবিশ্বাস্য কীর্তিতে একটা যুগকে রাঙিয়েছেন, তার জন্য দারুণ এক বিদায়ি সংবর্ধনা পেপের প্রাপ্যই। কিন্তু লিগের শেষ দিন পর্যন্ত আর্সেনালকে স্নায়ুচাপে রাখার যে রোমাঞ্চকর সুযোগ ছিল সিটির সামনে, তা আজ কর্পূরের মতো উড়ে গেছে।

ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে গার্দিওলা বলেন, ‘খুব কঠিন একটা ম্যাচ ছিল এবং আমরা সেটা জানতামও। আমাদের কিছুটা শক্তির অভাব ছিল, যা খুব স্বাভাবিক। আমাদের প্রতি তিন দিনে একটা করে ম্যাচ খেলতে হয়েছে। তাও আমরা লড়াই করে গেছি। শেষ মুহূর্তে আমরা গোল পেয়েছিলাম, কিন্তু বড্ড দেরি হয়ে গেছে। খেলোয়াড়েরা তাদের সবটুকু ঢেলে দিয়েছে, যেমনটা তারা পুরো মৌসুম জুড়েই করেছে।’

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের শিরোপা জয়ে নিজের উদারতা দেখাতে ভুল করেননি পেপ। বন্ধু ও একসময়ের সহকারী আরতেতাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর্সেনাল, মিকেল আরতেতা এবং তাদের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন। তারা এটার যোগ্য। মুহূর্তটি ওদের জন্য সত্যি ভীষণ স্পেশাল।’