‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ৪৮ জাহাজ আটক করল ইসরাইল
সংগৃহীত
গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়ার পথে আন্তর্জাতিক ত্রাণবহরের (ফ্লোটিলা) ওপর বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছে ইসরাইলি বাহিনী। গাজামুখী এই বহরের অন্তত ৪৮টি নৌযান ইসরাইলি সেনারা আটকে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন এর আয়োজকরা। এ সময় নৌযানগুলো থেকে প্রায় ৪০০ জন আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) পূর্ব ভূমধ্যসাগরে এই ঘটনা ঘটে। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের এই ত্রাণবহরের দুটি নৌযান লক্ষ্য করে ইসরাইলি সেনারা গুলিবর্ষণ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে ইসরাইলের দাবি, তারা কোনো তাজা গুলি চালায়নি এবং এই অভিযানে কেউ হতাহত হননি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রাণবহরের পক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরাইলি সেনারা দুটি নৌযান লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছেন। তবে সেগুলো কী ধরনের গোলাবারুদ ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে গুলিবর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছে:
‘কোনো অবস্থাতেই তাজা গুলি চালানো হয়নি। বারবার সতর্ক করার পর একটি নৌযানকে লক্ষ্য করে নন-লেথাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নয়। এই ঘটনায় কোনো বিক্ষোভকারী আহত হননি।’
এর আগে গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দেয়, তারা গাজার ওপর আরোপিত ‘আইনসম্মত নৌ অবরোধ’ কোনোভাবেই ভাঙতে দেবে না। তবে ত্রাণবহরের আয়োজকরা জানিয়েছেন, এত বাধার পরও এখনও তাদের দুটি নৌকা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গাজার উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
ত্রাণবহরে ইসরাইলি হস্তক্ষেপ ও নৌযান আটকে দেয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সোমবার রাতে আঙ্কারায় দেয়া এক বক্তৃতায় তিনি এই বহরকে ‘আশার যাত্রী’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং ইসরাইলের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
গত বৃহস্পতিবার ৩৯টি দেশের ৪২৬ জন অধিকারকর্মী ও সাহায্যকর্মী নিয়ে দক্ষিণ তুরস্ক থেকে তৃতীয়বারের মতো গাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এই ত্রাণবহর। এর আগের দুটি প্রচেষ্টাও আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে দিয়েছিল ইসরাইল।
এদিকে এই ঘটনার মধ্যেই মঙ্গলবার ত্রাণবহরের সঙ্গে যুক্ত চার ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। ওয়াশিংটনের দাবি, এই ত্রাণবহরটি ‘হামাসপন্থি’। তবে ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলা এবং হামাসকে সমর্থন করা এক বিষয় নয়–যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলছে।
ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা জানিয়েছে, গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার নিশ্চয়তা দেয়া হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় পৌঁছানো সহায়তার পরিমাণ এখনও চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজার ২০ লক্ষাধিক বাসিন্দার প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তীব্র সংকটের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ এখন বোমা বিধ্বস্ত বাড়িঘর, রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় কিংবা ধ্বংসস্তূপের ওপর তাঁবু খাটিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে গাজার চারদিকের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা ইসরাইল বরাবরের মতোই সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।