‘নিরাপত্তা দিতেই হেফাজতে নেওয়া হয় এনসিপি নেতাকে, মামলা থাকায় গ্রেপ্তার’

‘নিরাপত্তা দিতেই হেফাজতে নেওয়া হয় এনসিপি নেতাকে, মামলা থাকায় গ্রেপ্তার’

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে নিরাপত্তা দিতেই প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন। তবে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

রবিবার (২৪ মে) রাত ১১টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সচিব তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক রেজা আসেন। পুলিশ তাকে নিরাপত্তার স্বার্থে হেফাজতে নেয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় শেষ পর্যন্ত তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এ ছাড়া একই মামলায় গ্রেপ্তার যুবশক্তির নেতা অয়ন রহমান খানকে গুম করা হয়নি দাবি করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, যশোর থেকে গ্রেপ্তার যুব শক্তির নেতা অয়নকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার সময় তার বাবা, মা ও বোনকে অবহিত করা হয়। তাকে কোনোভাবেই গুম করা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অয়নকে গুম করার যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে সেটা ঠিক নয়, দাবি করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন আরো বলেন, ডিবি পুলিশ যখন তাকে গ্রেপ্তার করে, তখন থেকেই তার পরিবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা তারেক রেজা ও যুবশক্তি নেতা অয়ন রহমান খানকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যায় এ দুজনকে ঝিনাইদহের একটি আদালতে সোপর্দ করা হয়। বাদী ও বিবাদী পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন—বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান, ওসি (অপারেশন) শামসুজ্জোহা ও ডিবি পুলিশের ওসি সাব্বিরুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২২ মে শুক্রবার ঝিনাইদহ সফরে আসেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই দিন জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা বাদী হয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় ৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১১৫ জনকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন।

ওই মামলার জেরে পর দিন দুপুরে তারেক রেজাসহ ২২ জনকে আসামি করে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এনামুল কবির মামলা করেন। ওই মামলায় আজ সন্ধ্যায় এনসিপি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সেখান থেকে তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ছাত্রদলের ওই মামলার আসামি যুবশক্তির সদস্য অয়ন রহমান খানকে গত শনিবার ১১টার দিকে যশোরের জনতা ক্লিনিকে অসুস্থ বাবার শয্যাপাশে থাকা অবস্থায় ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।