চীনের নতুন নীতিতে হুমকির মুখে ভারতের বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন

চীনের নতুন নীতিতে হুমকির মুখে ভারতের বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন

ছবিঃ সংগৃহীত

রপ্তানি খাতে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে চীন। এর ফলে ভারতের ১২০ বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন হুমকির মুখে পড়তে পারে। কোভিড মহামারির পর থেকে দেশটি চীনের বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে শুরু করে। এ পরিকল্পনায় ইতোমধ্যে কিছু সাফল্যও এসেছে। তবে নতুন পরিস্থিতিতে সেই অগ্রযাত্রা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিডের পর থেকে অ্যাপলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে কার্যক্রম বাড়িয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প ঘোষণা এবং নতুন শিল্পপার্ক তৈরির প্রতিশ্রুতিও এসেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালে ভারতের ইলেকট্রনিক্স রপ্তানি ছিল ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে রেকর্ড ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এ রপ্তানি ১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারত যখন উৎপাদন খাতকে আরও শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে, তখন চীন সেই শিল্পকে চালিত করা সরবরাহব্যবস্থার ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। বেইজিংয়ের নতুন স্টেট কাউন্সিল ডিক্রির মাধ্যমে রপ্তানিতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইল শিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শিল্পখাতের কর্মকর্তারা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও উপাদান রপ্তানিতে চীনের এই নিয়ন্ত্রণ ভারতের সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে ব্যাহত করতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগে বিলম্ব হতে পারে এবং চীনা সরবরাহব্যবস্থার ওপর ভারতের নির্ভরশীলতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

প্রশ্ন উঠেছে, কারখানা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে থাকলে ভারত সত্যিই বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়াতে পারবে কি না। শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নিয়মে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের চালান কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা জানতে ইতোমধ্যেই চীনা সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পখাত সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে।

শনিবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু ভৌগোলিক অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার খাতভিত্তিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে। পাশাপাশি শিল্প অবকাঠামোতেও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৩৩ হাজার ৬৬০ কোটি রুপি ব্যয়ে আগামী তিন বছরে ৫০টি শিল্পপার্ক চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্মার্টফোন থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি—আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা এখনো অনেকটাই চীনা যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। শুধু অটোমোবাইল খাতেই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের মোট যন্ত্রাংশ আমদানির প্রায় ২৬ শতাংশ চীন থেকে এসেছে। এসব পণ্যের বড় অংশই উচ্চমূল্যের ইলেকট্রনিক উপাদান।