যুদ্ধের বাজারেও সিঙ্গাপুরের বাজিমাত, প্রবৃদ্ধি ছাড়াল ৬ শতাংশ

যুদ্ধের বাজারেও সিঙ্গাপুরের বাজিমাত, প্রবৃদ্ধি ছাড়াল ৬ শতাংশ

ফাইল ছবি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েসের সঙ্গে ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সামলে প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি গতিতে বাড়ছে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি।বিশ্ববাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ চিপের তুমুল চাহিদার ওপর ভর করে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সব পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।

সোমবার (২৫ মে) সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ছয় শতাংশ বেড়েছে। এর আগে, সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মূলত পাইকারি ব্যবসা, উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং), ফাইন্যান্স এবং ইনস্যুরেন্স খাতের চমৎকার পারফরম্যান্সের কারণে সিঙ্গাপুরের জিডিপিতে এই বড় লাফ দেখা গেছে।

এআই চিপের বাজারে জোয়ার

সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদার কারণে পাইকারি ব্যবসা খাতের আওতায় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অধীনে ইলেকট্রনিকস এবং প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাস্টারেও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্য-নির্ভর দেশ সিঙ্গাপুর সেমিকন্ডাক্টর এবং চিপ তৈরির সরঞ্জাম উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ এবং চিপ তৈরির যন্ত্রপাতির ২০ শতাংশই আসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশ থেকে।

হরমুজ প্রণালি সংকট ও ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধি

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও সারের দাম বাড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। তবু ২০২৬ সালের জন্য সিঙ্গাপুর তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ২ থেকে ৪ শতাংশেই অপরিবর্তিত রেখেছে।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে বছরের বাকি সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা মন্থর হতে পারে। তবে আশার কথা হলো, এআই-সংক্রান্ত পণ্যের চাহিদা এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে পুরো বছর জুড়েই চাঙ্গা রাখবে।

ব্যাংকিং গ্রুপ এএনজেডের এশিয়া অঞ্চলের গবেষণা প্রধান খুন গো বলেন, প্রথম প্রান্তিকের এই জিডিপি চিত্রে হয়তো মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পুরো প্রভাব এখনো প্রতিফলিত হয়নি। এর আসল প্রভাব দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পষ্ট হতে পারে। তবে প্রথম প্রান্তিকের এই শক্তিশালী ভিত্তি ২০২৬ সালের বাকি সময়টার জন্য বেশ আশাব্যঞ্জক।

তিনি রসিকতা করে যোগ করেন, ‘যতক্ষণ না সিঙ্গাপুরের তেলের মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ এআই বিনিয়োগের জোয়ারে ভর করে উৎপাদন খাত অর্থনীতিকে টেনেই যাবে।’