তুরস্ক-মিশরের সঙ্গে নতুন যুদ্ধের ইঙ্গিত ইসরায়েলি গুপ্তচরের

তুরস্ক-মিশরের সঙ্গে নতুন যুদ্ধের ইঙ্গিত ইসরায়েলি গুপ্তচরের

ফাইল ছবি।

ইরানের পর এবার তুরস্ক ও মিশর ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের কুখ্যাত সাবেক গুপ্তচর জোনাথন পোলার্ড এক পডকাস্টে এই ইঙ্গিত দিয়েছেন।ইসরায়েলের নীতিনির্ধারক ও নিরাপত্তা মহলগুলোর মধ্যে তুরস্ককে ‘নতুন ইরান’ এবং ভবিষ্যতের প্রধান কৌশলগত শত্রু হিসেবে বিবেচনা করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, পোলার্ডের মন্তব্য তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘আরুৎজ শেভা’র একটি পডকাস্টে পোলার্ড বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর ইসরায়েলকে আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই যে ইরানিদের সঙ্গে আমরা যতটা সহজে পেরেছি, তুর্কিদের সঙ্গেও ততটা সহজ হবে। আমাদের পরবর্তী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে, যা সম্ভবত তুরস্ক এবং মিশরের বিরুদ্ধে হবে। সামনে বড় ঝড় আসছে।’

কে এই জোনাথন পোলার্ড

জোনাথন পোলার্ড ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একজন গোয়েন্দা বিশ্লেষক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য ইসরায়েলের কাছে সরবরাহ করার দায়ে ১৯৮৭ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান।

প্রায় ৩০ বছর কারাভোগের পর ২০১৫ সালে তিনি মুক্তি পান। পরে ২০২০ সালে ইসরায়েলে গেলে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিজে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান এবং ইসরায়েলি নাগরিকত্ব দেন।

ইসরায়েলে বসবাস শুরু করার পর পোলার্ড দেশটির ডানপন্থি রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। তিনি গাজা দখল ও সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষেও প্রকাশ্যে মত দিয়েছেন।

তুরস্ক হবে ‘নতুন ইরান’?

সিরিয়ায় তুরস্ক-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারকে দক্ষিণ সিরিয়ার ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ না দিতে তেল আবিবকে সতর্ক করেছেন পোলার্ড। তিনি বলেন, এমনটা হলে ‘তুর্কিরা সরাসরি আমাদের সীমান্তে চলে আসবে।’

জোনাথন পোলার্ডের এই বক্তব্য ইসরায়েলের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামরিক চিন্তারই অংশ। ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, কাতারের সমর্থনে তুরস্ক এখন ইসরায়েলের প্রধান কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে ইরানকে প্রতিস্থাপন করছে।

এমনকি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েল সরকার গঠিত একটি বিশেষ কমিটি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের কাছে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে আঙ্কারাকে একটি ‘নতুন আঞ্চলিক হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে এবং সিরিয়ায় তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করে।

মিশরকে নিয়েও উদ্বেগ

তুরস্কের পাশাপাশি ইসরায়েলের সামরিক হুমকিসংক্রান্ত মূল্যায়নে এখন মিশরের নামও বারবার আসছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক ইসরায়েলি বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যে সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা ইসরায়েলের চারপাশে একটি শক্তিশালী ‘সুন্নি বলয়’ তৈরি করছে।

ঐতিহাসিকভাবে এই দুটি দেশের সঙ্গেই ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চলমান গণহত্যা ও নৃশংসতার তীব্র সমালোচনা এবং দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সমন্বয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তেল আবিবের কপালে এখন নতুন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক ও মিশরকে এভাবে শত্রু হিসেবে দাঁড় করানোর এই মনস্তত্ত্ব মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিধ্বংসী ও বড়সড় যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে।