ভিডিও চুরি করে আয়ের দিন শেষ! ক্রিয়েটরদের জন্য ‘ইলন মাস্কের’ বড় ধাক্কা

ভিডিও চুরি করে আয়ের দিন শেষ! ক্রিয়েটরদের জন্য ‘ইলন মাস্কের’ বড় ধাক্কা

ফাইল ফটো

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এবার অন্যের কনটেন্ট চুরি করে ভিউ পাওয়া এবং টাকা রোজগার বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মটিতে ছোট ক্রিয়েটরদের ভাইরাল ভিডিও ডাউনলোড করে বড় অ্যাকাউন্ট থেকে পুনরায় আপলোড করার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। এই ধরনের অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ করতেই নতুন নিয়ম চালু করেছে এক্স কর্তৃপক্ষ।

এক্স-এর প্রোডাক্ট প্রধান নিকিতা বিয়ার জানিয়েছেন, কিছু বড় অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম ব্যবহার করে ছোট ক্রিয়েটরদের ভিডিও রি-আপলোড করছিল। এর মাধ্যমে তারা প্ল্যাটফর্মটির রেভিনিউ শেয়ার প্রোগ্রামের অপব্যবহার করে আসছিল, অথচ মূল কনটেন্ট নির্মাতাকে কোনো কৃতিত্বই দেওয়া হচ্ছিল না। সম্প্রতি এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এক্স এই তড়িৎ পদক্ষেপ নিয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে এমন রি-আপলোড করা ভিডিও সহজে শনাক্ত করা হবে। শনাক্তকরণের পর সেই ভিডিওর সমস্ত ভিউ এবং আয়ের সম্পূর্ণ সুবিধা চলে যাবে মূল কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অ্যাকাউন্টে। ফলে কপি বা চুরি করা ভিডিও থেকে রি-আপলোডকারী নিজে আর এক পয়সাও আয় করতে পারবে না।

এক্সের কর্মকর্তারা ব্যবহারকারীদের মতামত বা প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য সরাসরি ভিডিও আপলোড না করে প্ল্যাটফর্মটির নিজস্ব 'শেয়ার ভিডিও' বা 'কোট' ফিচার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এর ফলে মূল পোস্টের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং প্রথম পোস্টকারীই আয়ের প্রকৃত মালিক হবেন।

এক্স কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য হলো উচ্চমানের মৌলিক কনটেন্ট তৈরিতে সবাইকে উৎসাহিত করা এবং ফাঁকফোকর বন্ধ করে প্রকৃত কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। এর আগে মেটা ও ডিসকর্ডের মতো বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করা নিকিতা বিয়ার এক্স-এ যোগ দেওয়ার পর থেকেই অরিজিনাল বা মৌলিক কনটেন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন।