চলে গেলেন অভিনেত্রী কেলি কার্টিস
কেলি কার্টিস
হলিউডের অন্যতম বিখ্যাত ও অভিজাত ‘কার্টিস’ পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী এবং তথ্যচিত্র নির্মাতা কেলি কার্টিস আর নেই।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। ক্যান্সারের সাথে লড়াই করা কেলি গত বুধবার সকালে প্রকৃতির কোলে ঘেরা নিজের বাড়িতে খুব শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন কিংবদন্তি অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেমি লি কার্টিসের আপন বড় বোন এবং হলিউডের সোনালী যুগের মহানায়ক টনি কার্টিস ও জ্যানেট লেই-এর জ্যেষ্ঠ কন্যা।
বড় বোনের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বোন জেমি লি কার্টিস। বোনকে নিজের জীবনের প্রথম বন্ধু ও আজীবন সুখ-দুঃখের ভাগীদার উল্লেখ করে জেমি লেখেন, ‘আজ সকালে আমার বড় বোন খুব শান্তিতে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। সে ছিল অসাধারণ রূপবতী এবং একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রী। বড়দিনে ওর হাতে বানানো বাদামের কুকিজের জন্য আমাদের পরিবারে ওর নাম ছিল ‘আন্টি কুকি’। যেকোনো মেসেজের শেষে ও সবসময় হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় বলত ‘ইস্তেন ভেলেদ’, যার অর্থ ঈশ্বর তোমার সহায় হোন। ওপারে আমাদের আবার দেখা হবে বোন।’
হলিউডের এত বড় তারকা দম্পতির সন্তান হওয়ায় কেলির সিনেমার যাত্রা শুরু হয়েছিল একদম ছোটবেলায়। মাত্র ২ বছর বয়সে ১৯৫৮ সালে বাবা-মায়ের সাথে ‘দ্য ভাইকিংস’ সিনেমায় একটি শিশু চরিত্রে অভিনয় করে তার পর্দায় অভিষেক হয়। এরপর ‘দ্য সেন্টিনেল’, ‘স্টার ট্রেক: ডিপ স্পেস নাইন’ এবং ‘দ্য ইকুয়ালাইজার’-এর মতো বিশ্ব কাঁপানো মার্কিন টিভি সিরিজে অভিনয় করে তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা পান।
১৯৮৩ সালে ‘ট্রেডিং প্লেসেস’ নামের একটি কমেডি ছবিতে দুই বোন কেলি ও জেমি একসাথে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন। শুধু অভিনয়ই নয়, জেমির ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘ফ্রিকি ফ্রাইডে’ এর শুটিংয়ের সময় পর্দার আড়ালে বোনের প্রধান সহকারী হিসেবেও কাজ করেছিলেন কেলি। পরবর্তী জীবনে তিনি একজন দক্ষ ডকুমেন্টারি মেকার বা তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবেও সুনাম কুড়ান।
পর্দার ঝলমলে আলোর চেয়েও কেলি কার্টিস তার পরিবারের কাছে একজন মায়াবতী বড় বোন ও আস্থার প্রতীক হিসেবেই বেশি সমাদৃত ছিলেন। তার এই চিরপ্রস্থানে হলিউড এবং কার্টিস পরিবারে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।