আবারও মিরপুরে একাকী নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী-সন্তান কানাডায়

আবারও মিরপুরে একাকী নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী-সন্তান কানাডায়

প্রতিকি ছবি

 

রাজধানীর মিরপুরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও একাকী বসবাসরত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ মিরপুর-৬ এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে সেলিনা আফরোজ (৫৫) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার স্বামী ও দুই সন্তান দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় বসবাস করেন।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (২ জুন) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পল্লবী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এমদাদুল হক জানান, সেলিনা আফরোজ প্রায় ১২ বছর আগে কানাডা থেকে দেশে ফিরে বাবার ফ্ল্যাটে একাই বসবাস শুরু করেন। তার স্বামী ও দুই মেয়ে বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। ফ্ল্যাটের দরজা খুলে স্বজনরা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গত ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে কোনো এক সময় তার মৃত্যু হয়েছে। কারণ, ২৬ মে রাতে এক ভাতিজার সঙ্গে সর্বশেষ ফোনে কথা হয়েছিল তার। এরপর থেকে পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হানিফ বলেন, মরদেহে পচন ধরায় কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এদিকে, সেলিনা আফরোজের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে, কারণ এর মাত্র কয়েকদিন আগেই রাজধানীর পল্লবী এলাকায় নুরুজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। গত ৩১ মে উদ্ধার হওয়া ওই মরদেহের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পরে জানা যায়, নুরুজাহান বেগমের সন্তানদের মধ্যে একজন যুগ্ম সচিব, একজন শিক্ষক এবং আরেকজন কানাডাপ্রবাসী।

আর্থিকভাবে সচ্ছল সন্তান থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন তিনি একা ও অযত্নে ছিলেন কেন—এ প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেটিজেনরা