দায়িত্ব পাওয়ার তিন দিনের মাথায় অবসরের আবেদন সিআইডি প্রধানের

দায়িত্ব পাওয়ার তিন দিনের মাথায় অবসরের আবেদন সিআইডি প্রধানের

সংগৃহীত ছবি

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) আলী আকবর খান স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছেন। পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে এবং বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর তিনি এ আবেদনপত্র দাখিল করেন।

এর আগে আজই পুলিশের ৫ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। যাদের মধ্যে দুজন আলী আকবর খানের ব্যাচের (১৫তম) এবং তিনজন ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা। 

আবেদনপত্রে আলী আকবর খান উল্লেখ করেন, ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর থেকে তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ সময় বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তাকে ওএসডি করা হয় এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বঞ্চনার পর ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।

আবেদনে তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের কারণেই তিনি পুনরায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পদোন্নতির তালিকায় তার নাম না থাকায় তিনি পুনরায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন।

তিনি লিখেছেন, নিজের অযোগ্যতা নিয়ে সরকারের বোঝা হওয়ার পরিবর্তে তিনি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় অবসর নিতে ইচ্ছুক।

আবেদন অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই ২০২৬ থেকে তার এ অবসর কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই তারিখ থেকে এক বছরের পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) মঞ্জুরের জন্যও আবেদন করেছেন এই কর্মকর্তা। সিআইডি সদর দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে আলী আকবর খানের এই আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এদিকে পদত্যাগের বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।