টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা ভেঙে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, ভাঙচুর

টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা ভেঙে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, ভাঙচুর

ফাইল ছবি

 

হামলা-ভাঙচুরে ফের উত্তপ্ত টাঙ্গাইলের দুই উপজেলার পাশাপাশি গ্রাম। ১৪৪ ধারার মধ্যেই আজ শুক্রবার সকালে ঘটেছে হামলার ঘটনা। আগুন দেওয়া হয়েছে কয়েকটি বাড়িতে।  

বৃহস্পতিবার থেকে গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে দফায় দফায় চলছে সংঘর্ষ।

প্রাণও গেছে একজনের।  

গত রাতে মাইকিং করে অস্ত্র নিয়ে জড়ো হওয়ার ঘোষণাও শোনা যায় গোপালপুর অংশে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ সকাল ৬টা থেকে গোপালপুরের নলীন ও জগৎপুরা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। এর মধ্যেই সকালে দুই এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।

আগুন দেওয়া হয় জগৎপুরার কয়েকটি বাড়িতে। থানা পুলিশসূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এবং পাশের গোপালপুর উপজেলার গোলপেচা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পুরোনো বিরোধের জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। নিহত হয়েছেন জগৎপুরা গ্রামের কালাম তালুকদার (৬৫)।

এরপর গোপালপুর অংশের লোকজন রাতে মাইকিং করে হামলার জন্য প্রস্তুত হতে বলে। ‘শুক্রবার যার কাছে যে অস্ত্র আছে, তা নিয়ে নলিন বাজারে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো’- মাইকিংয়ে বলা হয় এসব। এর জেরে রাতেই ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।  

বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গোপালপুরের নলীন বাজার, গোলপেঁচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন আছে। দুই উপজেলায় এখন থমথমে পরিস্থিতি ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ফের সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে দুই পক্ষ বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়ে আছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বলছিলেন, দুই গ্রামের মধ্যে চলমান বিরোধটি মূলত একটি ব্যক্তিগত ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কয়েক মাস আগে একটি দোকানে বাকির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। পরে বিভিন্ন সময় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। হঠাৎ আবারও সংঘাত শুরু হলো।  

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন গতরাতে বলেছেন, সংঘাত নিরসনে এলাকার রাজনৈতিক নেতা ও দুই গ্রামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাইলাতুল হোসেন বলেন, সংঘাত নিরসনের চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।