বিশাল অঙ্কের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বেসরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে: আইসিএবি
ছবি: সংগৃহীত
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের বিশাল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)।
সংগঠনটি মনে করে, সরকারের এই বিপুল ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহকে সীমিত করে তুলবে।
শনিবার ( ১৩ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংগঠনের আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এই মন্তব্য করেন আইসিএবি সভাপতি এন কে এ মবিন।
এতে আইসিএবি সভাপতি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি অর্থায়নের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকাই ব্যাংক খাত থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সরকারের এই ঋণমুখী নীতি বেসরকারি খাতের স্বাভাবিক ঋণপ্রবাহে টান ফেলতে পারে, যা প্রকারান্তরে দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মবিন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নতার মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতির মধ্যেও সরকার ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগ দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।
তবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ এবং কর ব্যবস্থায় জরুরি সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা আবশ্যক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইসিএবি বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে– ন্যূনতম কর ও করহার নির্ধারণ, কর ফেরত ও নতুন উদ্যোগের (স্টার্টআপ) জন্য কর প্রণোদনা, ট্রাইব্যুনাল ও উচ্চ আদালতে আপিলের ক্ষেত্রে কর জমার পরিমাণ হ্রাস করা ও নগদ লভ্যাংশের ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহার।
এই ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো কর প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াবে, ব্যবসা পরিচালনা (ইজ অব ডুইং বিজনেস) সহজ করবে এবং দেশের বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করবে।
বাজেটের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে আইসিএবি সতর্ক করে বলে, খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম কর আদায় বাধ্যতামূলক করা হলে তা বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে, যার খেসারত দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক বিশ্লেষণ করে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা (প্রেজেন্টেশন) দেন রহমান রহমান হক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পরিচালক সরকার নাহিদুল ইসলাম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- আইসিএবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, সহসভাপতি মো. মনিরুজ্জামান এবং কাউন্সিল সদস্য এম বি এম লুৎফুল হাদীসহ সংগঠনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।