ফিফার তিন মিনিট পানি পানের বিরতি কার স্বার্থে?

ফিফার তিন মিনিট পানি পানের বিরতি কার স্বার্থে?

সংগৃহীত ছবি

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে এখন উত্তপ্ত মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি উত্তপ্ত এক বিতর্ক। প্রচণ্ড গরম আর আর্দ্রতার অজুহাতে আয়োজক দেশগুলোতে প্রতি ম্যাচের প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের 'হাইড্রেশন ব্রেক' বা পানি পানের বিরতি নিয়ে শুরু হয়েছে চরম নাটকীয়তা। 

ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য ছন্দ নষ্ট করার দায় দিয়ে অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে খোদ কোচরাই ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন এই নিয়মের বিরুদ্ধে। কেউ কেউ একে দেখছেন মাঠের মোমেন্টাম ভেঙে প্রতিপক্ষকে সুবিধা দেওয়ার কৌশল হিসেবে, আবার কারও চোখে এটি স্রেফ আমেরিকান ব্রডকাস্টারদের বিজ্ঞাপন প্রচারের নতুন এক ফন্দি।

ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি অবশ্য এই বিরতিকে নিজেদের কৌশল সাজানোর সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন, যার প্রমাণ মিলেছে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে বিরতির পর সমতা ফিরিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটাও যে ভয়াবহ, তা দেখা গেছে কুরাসাওয়ের ক্ষেত্রে, জার্মানির বিপক্ষে এক গোল করে রূপকথার মতো শুরু করেও এই বিরতির পরেই যেন ছন্দ হারিয়ে খেই হারিয়ে ৭ গোল হজম করে বসে তারা। 

এমনকি খোদ মার্কিন নারী দলের কোচ এমা হেইস একে সরাসরি 'মোমেন্টাম ব্রেক' বলে আখ্যা দিয়েছেন, কারণ ভালো খেলতে থাকা দলের ছন্দ নিমেষেই চুরমার করে দেয় এই তিন মিনিট। তবে ফিফা আর সমর্থকপক্ষের এই দ্বন্দ্বের মাঝেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কেউ কেউ, যারা খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এই নিয়মকে সমর্থন করছেন। 

কিন্তু দিনশেষে স্টেডিয়ামে আসা হাজার হাজার দর্শক কি এই কৃত্রিম বিরতি আর বিজ্ঞাপনের ফাঁদ মেনে নিতে পারছেন? ফুটবলের গতিময় লড়াইয়ে এই তিন মিনিটের বিরতি কি সত্যিই জয়ের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে নাকি ধ্বংস করছে খেলার স্বাভাবিক সৌন্দর্য, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন চলছে তুমুল বাগবিতণ্ডা।

সূত্র: বিবিসি