বৈশ্বিক ফ্যাশন অঙ্গনে শক্ত অবস্থান গড়তে ব্র্যান্ডিংয়ে জোর দেওয়ার আহ্বান
সংগৃহীত
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পোশাক উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হলেও বৈশ্বিক ফ্যাশন অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে ব্র্যান্ডিং, উদ্ভাবন, মূল্য সংযোজন এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত এক প্যানেল আলোচনায় তারা এ আহ্বান জানান।
‘ফ্রম ফ্যাক্টরি ফ্লোর টু গ্লোবাল ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্স: ব্রিজিং দ্য ব্র্যান্ডিং গ্যাপ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় দেশীয় পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ডটেক্স ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজেশ ভগত।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের সম্পাদক-ইন-চিফ ড. শরীফ এন. এস. সাবের বলেন, “বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের পরবর্তী অগ্রযাত্রা শুধু উৎপাদন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে না। উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনই ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার মূল চাবিকাঠি হবে।”
সেশনটি পরিচালনা করেন উর্মি গ্রুপের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি এবিএম ফখরুল আলম।
তিনি তার মূল উপস্থাপনায় বৈশ্বিক বাজারে ভোক্তাদের পরিবর্তিত চাহিদা, সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীল সোর্সিং এবং কার্যকর ব্র্যান্ড স্টোরিটেলিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন রিয়াজ গার্মেন্টস লিমিটেডের পরিচালক মো. সালাউদ্দিন, এমবি নিটের পরিচালক ও বায়লার প্রথম সহ-সভাপতি হাসিন আরমান, নর্পনিট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্দ্রপাল সিং রাওয়াত, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের বিজনেস এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন, টেক্সটাইলজেনেসিসের রিজিওনাল লিড শাহানা আক্তার কিরণ এবং ক্লথস ‘আর’ আস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিয়াও সেইন থে ডলি।
আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে একটি নির্ভরযোগ্য পোশাক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন প্রয়োজন ডিজাইন উদ্ভাবন, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক ফ্যাশন অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করা।
ফোরামে বাংলাদেশের ফ্যাশন শিল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।