কুবিতে ৬ কর্মচারীর শাস্তিকে অবৈধ ঘোষণা আদালতের
ফাইল ছবি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ‘তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ নির্বাচন-২০২৩’ এর প্রকাশিত ভোটার তালিকাকে অবৈধ ঘোষণা করেছে আদালত। পাশাপাশি ৬ কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকেও অবৈধ ঘোষণা করেছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে বাদী পক্ষের এডভোকেট মো: আহসান উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ এ তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দিপক চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক মো: মহসিন স্বাক্ষরিত এক সাধারণ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, মিথ্যা তথ্য প্রচারসহ বিভিন্ন অনিয়মে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে গণিত বিভাগের অফিস সহকারি কাম ডাটা প্রসেসর এ কে এম কামরুল হাসানকে পরিষদের সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং তিনি পরিষদের দুইটি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
অপরদিকে, রসায়ন বিভাগের ল্যাব সহকারি নাছির উদ্দিন ও বাংলা বিভাগের অফিস সহকারি কাম ডাটা প্রসেসর মো. জিয়াউর রহমানের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছিল এবং তারাও একটি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এছাড়া, মার্কেটিং বিভাগের অফিস সহকারি কাম ডাটা প্রসেসর মো. হাবিবুর রহমান ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অফিস সহকারি কাম ডাটা প্রসেসর মো. আব্দুল কাদের পরিষদের সদস্যপদ বহাল রাখলেও তারা আগামী একটি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে অভিযুক্তদের পক্ষে মো: হাবিবুর রহমান (অফিস সহকারি কাম ডাটা প্রসেসর) বাদী হয়ে অবৈধ ভোটার তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে গত ২৬ জুলাই ২০২৩ এ বিজ্ঞ জজ আদালতে একটি মামলা রুজু করেন। সেই মামলার শুনানি শেষে সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই ২০২৩ তারিখে প্রকাশিত ভোটার তালিকাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে বৈধ ভোটার হিসেবে বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।
মামলার বাদী মো: হাবিবুর রহমান বলেন, “তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং সম্পাদক স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে আমরা ৬ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে সদস্য পদ বাতিল ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না মর্মে যে অঘটনতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং নির্বাচন কমিশন তার প্রেক্ষিতে যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল; বিজ্ঞ আদালত সেই ভোটার তালিকাকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং আমাদেরকে বৈধ ভোটার হিসেবে গণ্য করে চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করেছে। তারা যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করেছিল তার প্রমাণ হয়েছে।”
তৎকালীন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: মোহসিন বলেন, “আদালতে রায় দিয়ে থাকলে ভালো। এ বিষয়ে আমি একা কোনো মন্তব্য করব না।”