সীমান্তবর্তী মানুষদের মিলিটারি ট্রেনিং দিতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “ভারত সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ করেছে বলে বাংলাদেশও যদি একই পথে হাঁটে, তাহলে সীমান্ত সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না। এ সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। সীমান্তকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সীমান্তবর্তী মানুষদের মিলিটারি ট্রেনিং দিতে হবে।”
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির আয়োজিত ‘সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সবিনয়ে আমি সালাউদ্দিন ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, ভারত কাঁটাতার নির্মাণ করেছে, আপনিও যদি কাঁটাতার নির্মাণ করেন তাহলে কি সীমান্ত সমস্যার সমাধান হবে? আমি মনে করি, আমরা মনে করি, এই সমস্যার সমাধান হবে না।”
তিনি বলেন, “সীমান্ত ইস্যুতে তিনটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের যে মানচিত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সবার সামনে উপস্থাপিত হয়, সেটিই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সীমানা। তবে, সাংস্কৃতিকভাবে বাংলাদেশের পরিধি আরও বিস্তৃত।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমাদের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। ভাষা, খাদ্যাভ্যাসসহ অনেক বিষয়ে আমাদের মিল রয়েছে। সেজন্য সাংস্কৃতিকভাবে যেখানে যেখানে বাঙালি ডায়াসপোরা রয়েছে, সেখানেই আমাদের সীমানা বিস্তৃত। অর্থনৈতিকভাবেও বিশ্বের যেসব স্থানে বাংলাদেশি ও বাঙালি ডায়াসপোরা রয়েছে, সেসব জায়গাও বাংলাদেশের প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, “প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি সমন্বিতভাবে কাজ করে, তাহলে বিশ্বব্যাপী চলমান অভিবাসন প্রক্রিয়া এবং সীমান্ত পরিস্থিতির বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা সম্ভব।” জাতিসংঘের আইন ও আন্তর্জাতিক কাঠামোর আওতায় সীমান্তে কী ঘটছে, তা বিশ্বব্যবস্থার কাছে উপস্থাপন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমাদের বিজিবিকে শক্তিশালী করতে হবে। এছাড়া আমাদের বিকল্প নেই। নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে হবে, বিমানবাহিনীকে শক্তিশালী করতে হবে, সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে হবে।”