নারীদের আশুরার রোজা ছুটে গেলে পরে কাজা করা যাবে?
ফাইল ফটো
মহররমের ১০ তারিখের রোজা, যা আশুরার রোজা নামে পরিচিত, একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। এর সঙ্গে ৯ বা ১১ মহররম মিলিয়ে রোজা রাখাও সুন্নত। কিন্তু অনেক নারী হায়েজ বা নিফাসের কারণে এই রোজা রাখতে পারেন না। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে- পরে কি এই রোজার কাজা রাখা যাবে? কাজা রাখলে কি আশুরার সওয়াব পাওয়া যাবে?
ইসলামি শরিয়তের দলিল ও ফকিহদের বক্তব্যের আলোকে বিষয়টি নিচে তুলে ধরা হলো।
আশুরার রোজার মর্যাদা
আশুরার রোজা ফরজ নয়; এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, আশুরার দিনের রোজা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
আরেক হাদিসে তিনি বলেন, ‘আমি যদি আগামী বছর জীবিত থাকি, ইনশাআল্লাহ নবম তারিখেও রোজা রাখব।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৩৪)
এ থেকেই আলেমরা বলেন, ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম একসঙ্গে দুইটি রোজা রাখা উত্তম।
মাসিকের কারণে রোজা রাখতে না পারলে কী হবে?
হায়েজ বা নিফাস অবস্থায় নারীর জন্য রোজা রাখা অনুমোদিত নয় এবং নিষিদ্ধ। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমরা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর যুগে মাসিকগ্রস্ত হলে রোজার কাজা করার নির্দেশ পেতাম; কিন্তু নামাজের কাজা করার নির্দেশ পেতাম না।’ (সহিহ বুখারি: ৩২১; সহিহ মুসলিম: ৬৫০)
তবে এই হাদিসে যে কাজার কথা এসেছে, তা রমজানের ফরজ রোজা সম্পর্কে; নফল বা সুন্নত রোজা সম্পর্কে নয়।
আশুরার রোজা পরে কাজা করা যাবে?
সংক্ষেপে উত্তর- না, আশুরার রোজার কাজা শরিয়তে প্রমাণিত নয়।
আশুরার রোজা একটি নির্দিষ্ট দিনের সুন্নত ইবাদত। সেই দিন চলে গেলে ওই বিশেষ ইবাদতের সময়ও শেষ হয়ে যায়। পরে অন্য দিনে রোজা রাখলে তা সাধারণ নফল রোজা হিসেবে গণ্য হবে, আশুরার রোজার কাজা হিসেবে নয়।
প্রখ্যাত ফকিহরাও এ মতই দিয়েছেন। ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘যেসব নফল ইবাদত নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সময় অতিবাহিত হলে সেগুলো কাজা করা শরিয়তসম্মত নয়; তবে যে ক্ষেত্রে শরিয়ত আলাদা দলিল দিয়েছে তা ব্যতিক্রম।’ (আল-মাজমু: ৬/৪৩৯)
শাইখ ইবনু উসাইমিন (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আশুরার রোজা মিস হলে পরে কি কাজা করা যাবে? তিনি জবাব দেন, ‘আশুরার রোজা নির্দিষ্ট দিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেই দিন অতিক্রান্ত হলে কাজা করা হবে না। কারণ এর কাজার ব্যাপারে শরিয়তে কোনো দলিল নেই।’ (লিকাউল বাবিল মাফতুহ)
তাহলে নারী কী করবেন?
হায়েজ বা নিফাসের কারণে রোজা ছুটে গেলে তিনি গুনাহগার হবেন না। কারণ এটি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং শরিয়তস্বীকৃত ওজর।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘বান্দা যখন অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে, তখন সুস্থ ও মুকিম অবস্থায় যে আমল করত, তার সমপরিমাণ সওয়াব তার জন্য লেখা হয়।’ (সহিহ বুখারি: ২৯৯৬)
আলেমরা বলেন, যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে কোনো নেক আমল করার ইচ্ছা করেছিলেন; কিন্তু শরিয়তস্বীকৃত ওজরের কারণে তা করতে পারেননি, আল্লাহ তাআলা তার নিয়তের কারণে সওয়াব দান করতে পারেন। তাই কোনো নারী আশুরার রোজা রাখার দৃঢ় নিয়ত করার পরও হায়েজ বা নিফাসের কারণে রাখতে না পারলে তিনি আল্লাহর রহমত ও প্রতিদানের আশা রাখবেন।
এ ছাড়া আশুরার দিনটি দোয়া, জিকির, ইস্তেগফার, সদকা ও অন্যান্য ইবাদতে কাটানো উচিত।
অতএব, আশুরার রোজা একটি নির্দিষ্ট দিনের সুন্নত ইবাদত। মাসিক বা নিফাসের কারণে কোনো নারী এই রোজা রাখতে না পারলে পরে তার কাজা করা শরিয়তসম্মত নয়। তবে এতে তিনি গুনাহগার হবেন না। আন্তরিক নিয়ত থাকলে আল্লাহ তাআলা তাঁর অশেষ অনুগ্রহে সওয়াব দিতে পারেন।