মা-তিন মেয়ে হত্যাকাণ্ড; রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে পুলিশ, ধোঁয়াশা কাটেনি

মা-তিন মেয়ে হত্যাকাণ্ড; রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে পুলিশ, ধোঁয়াশা কাটেনি

সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা-গুঞ্জন চললেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। বিক্ষিপ্তভাবে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান ও জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন দিক যাচাই করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

এদিকে শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক কোনো বিষয় নয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের দাঙ্গা বা সম্প্রীতি বিনষ্টের সুযোগ দেওয়া হবে না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

শুক্রবার নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। একই দিন বিকেলে রায়পুরে প্রথম জানাজা শেষে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাতে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের মরদেহ দাফন করা হয়।

অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনাতেও অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়েছে। স্বজনরা মরদেহ নিতে অনীহা প্রকাশ করলে পরে দূর সম্পর্কের এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এক ব্যক্তির পক্ষে দিনের বেলায় চারজনকে হত্যা করা সম্ভব কি না, আটক হওয়ার পর অন্তরের নিজেকে নির্দোষ দাবি, ঘটনার সময় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, কিংবা হত্যার পেছনে লুটপাট বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

নিহত শাহিনুর বেগমের ভাই ছানা উল্যা দাবি করেন, বোনের স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাত বলেন, ঘটনাটি টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেও হয়ে থাকতে পারে। কারণ বাড়ির ভাড়ার টাকা তার মায়ের কাছেই জমা হতো। তিনি আরও জানান, কয়েক মাস আগে ভবন ছেড়ে যাওয়ার পর অন্তরকে আর সেখানে আসতে দেখেননি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, একজন মানুষের পক্ষে চারজনকে হত্যা করা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ধোঁয়াশা রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্তে বেরিয়ে আসা উচিত।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।