হিরো এই প্রথম ফ্লেক্স ফুয়েল-চালিত মোটরসাইকেল আনল

হিরো এই প্রথম ফ্লেক্স ফুয়েল-চালিত মোটরসাইকেল আনল

ফাইল ছবি

সাধারণ মানুষের অত্যন্ত জনপ্রিয় বাইক হিরো স্প্লেন্ডর এবার নতুন প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী যাতায়াত ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে হিরো মোটোকর্প বাজারে এনেছে তাদের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল মোটরসাইকেল—‘স্প্লেন্ডর প্লাস ফ্লেক্স-ফুয়েল’। নতুন এই বাইকটি সাধারণ পেট্রলের চেয়ে প্রায় ২০ টাকা সস্তা ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানিতে চলতে সক্ষম, যা একদিকে যেমন খরচ কমাবে, তেমনি দূষণ নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখবে।

ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির সুবিধা

ভারত সরকার অনুমোদিত ই-২০ থেকে ই-৮৫ পর্যন্ত যেকোনো ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানিতে এই বাইকটি চলতে পারে। বাইকটির ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থায় ৩৬টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মধ্যে নতুন ফুয়েল পাম্প, সেকেন্ডারি এয়ার ফিল্টার এবং রিক্যালিব্রেটেড ইঞ্জিন কন্ট্রোল ইউনিট (ECU) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে দিল্লি-এনসিআর ও মহারাষ্ট্রে বাইকটি পাওয়া যাবে এবং পর্যায়ক্রমে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এর বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে।

ডিজাইন ও ফিচার

বাইকটির ডিজাইন ক্লাসিক স্প্লেন্ডর প্লাস-এর মতোই রাখা হয়েছে, যা মজবুত ও ব্যবহারিক। এর দৈর্ঘ্য ২০০০ মিমি, প্রস্থ ৭২০ মিমি এবং উচ্চতা ১০৫২ মিমি। ১৬৫ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স থাকায় খারাপ রাস্তায় এটি বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেয়। চালকের আরাম নিশ্চিত করতে সিটের উচ্চতা রাখা হয়েছে ৭৮৫ মিমি। এছাড়া বাইকটিতে রয়েছে অ্যালয় হুইল, টিউবলেস টায়ার, সেমি-ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কম্বাইন্ড ব্রেকিং সিস্টেম ও এলইডি পজিশন ল্যাম্প। ৯.৮ লিটার ধারণক্ষমতার ফুয়েল ট্যাঙ্কসহ বাইকটির ওজন মাত্র ১১৩ কেজি, যা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।

ইঞ্জিন ও মাইলেজ

বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৯৭.২ সিসির এয়ার-কুলড, ৪-স্ট্রোক, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। ই-৮৫ জ্বালানিতে এটি ৮.৫ পিএস শক্তি ও ৮.৩ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। ৪-স্পিড গিয়ারবক্সের এই বাইকটি সর্বোচ্চ ৮৭ কিমি/ঘণ্টা গতিতে চলতে সক্ষম। হিরোর দাবি অনুযায়ী, ই-২০ জ্বালানিতে এটি ৭০ কিমি/লিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে পারে এবং বাস্তব ক্ষেত্রে প্রায় ৬২ কিমি/লিটার মাইলেজ পাওয়া সম্ভব।

মূল্য ও অফার

দিল্লির এক্স-শোরুম অনুযায়ী বাইকটির দাম ৮২,৮১০ রুপি হলেও, বিশেষ অফারের অধীনে এটি এখন মাত্র ৭৮ হাজার ৭১০ রুপিতে কেনা যাচ্ছে। নির্ভরযোগ্যতা, কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই বাইকটি মধ্যবিত্তের যাতায়াতকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করে তুলবে।