হরমুজে নিরাপদ নৌ চলাচলের নিশ্চয়তা দিল তেহরান
ফাইল ছবি।
যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আওতায় নিজেদের অঙ্গীকার পূরণ করলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত শর্ত বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে তেহরান। এমন নিশ্চয়তা দিয়েছেন জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ইরাভানি বললেন, চুক্তি অনুযায়ী ইরান ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ চালাবে। এ সময় কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি আরোপ করা হবে না।
তিনি বলেছেন, নৌ চলাচলের পথে সামরিক ও কারিগরি বাধা অপসারণের পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অবিলম্বে আবার শুরু করার কথাও এ ব্যবস্থায় উল্লেখ রয়েছে।
ইরাভানি আরও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন অপসারণ কার্যক্রম আগামী ৩০ দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে তারা আশা করছেন।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন।
ইরাভানির ভাষ্য, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যে কারিগরি আলোচনা চলছে, সেই সময় নিরাপত্তা পরিষদের এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরান সম্পর্কে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য’ পুনরাবৃত্তি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি।
ইরাভানি আরও দাবি করেন, কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে ‘দুটি আগ্রাসী যুদ্ধ’ শুরু করেছে। এ ঘটনাকে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের আগে তেহরান সাময়িকভাবে কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বৃহস্পতিবার ইরানের আলোচক দল কাতার ত্যাগ করে। গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হন।