নেটিজেনদের মন কেড়েছে ওস্তাদ মেহেদীর কালজয়ী গজল ‘রাফতা রাফতা’
ফাইল ছবি
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় গানের ধারা, বদলে যায় শ্রোতাদের পছন্দ। কিন্তু কিছু সৃষ্টি থাকে যা কালকে জয় করে টিকে থাকে অনন্তকাল। তেমনই এক চিরসবুজ সৃষ্টি পাকিস্তানি গজল সম্রাট ওস্তাদ মেহেদী হাসানের জাদুকরী কণ্ঠের গজল ‘রাফতা রাফতা ও মেরি’। অর্ধশতক পেরিয়ে এসেও এই গানটির আবেদন যেন বিন্দুমাত্র কমেনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গানটি নিয়ে নতুন করে মেতে উঠেছেন নেটিজেনরা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা ইউটিউবের রিলস ও শর্টসে এখন নতুন করে ট্রেন্ডিংয়ে উঠে এসেছে নিখাদ ভালোবাসার এই কালজয়ী সুর। গজলটির মূল আকর্ষণ লুকিয়ে আছে এর গভীর ও কাব্যিক কথায়। বিখ্যাত গীতিকার তাসলিম ফাজলির কলমে উঠে এসেছে প্রেমের এক চিরন্তন দর্শন।
কোনো আকস্মিক মোহ বা তীব্র সাময়িক আবেগ নয়, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুটি হৃদয়ের ধীরে ধীরে, ধাপে ধাপে এক সুতোয় বাঁধা পড়ার গল্প বলে এই গান। ‘রাফতা রাফতা’ শব্দযুগলের অর্থই হলো ‘ধীরে ধীরে’। ওস্তাদ মেহেদী হাসানের মায়াবী ও দরদী কণ্ঠের জাদুতে এই শব্দগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে এক অদ্ভুত আবেশ তৈরি করে, যা বর্তমান যুগের সস্তা ও চটজলদি গানের ভিড়ে শ্রোতাদের মনের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে।
এই কালজয়ী গজলটি প্রথম বড় পর্দায় জায়গা করে নেয় ১৯৭৫ সালে। সে সময়ের তুমুল জনপ্রিয় পাকিস্তানি চলচ্চিত্র ‘জিনাত’-এ গানটি ব্যবহার করা হয়। রূপালি পর্দায় এই গানের সঙ্গে পারফর্ম করেছিলেন তৎকালীন উপমহাদেশের হার্টথ্রব তারকা ও বাংলাদেশের গর্ব শবনম। তার সঙ্গে আরও ছিলেন নাদিম বেগ, শহীদ এবং জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা মুনাওয়ার জারিফ। চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর এই গান তৎকালীন শ্রোতাদের মাঝে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
বর্তমানে নেটদুনিয়ায় গানটি নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা প্রমাণ করে ভালো গানের কোনো ভৌগোলিক সীমানা বা বয়সের ফ্রেমে বাঁধা নিয়ম থাকে না। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ শ্রোতারাও ওস্তাদ মেহেদী হাসানের এই সৃষ্টিকে লুফে নিয়েছেন। উপমহাদেশীয় সংগীতের এই অমূল্য রতন যে যুগের পর যুগ ধরে এভাবে মানুষের হৃদয়কে আলোড়িত করে যাবে, ‘রাফতা রাফতা’র এই নতুন জোয়ার যেন আরও একবার তারই জানান দিল।