কেন হোটেলের ঠিকানা গোপন রেখে ‘ঘুমপাড়ানি মেশিন’ লাগাচ্ছে ইংল্যান্ড

কেন হোটেলের ঠিকানা গোপন রেখে ‘ঘুমপাড়ানি মেশিন’ লাগাচ্ছে ইংল্যান্ড

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ মহারণ। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মেক্সিকো।

মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই মাঠের বাইরের নানা সমীকরণ আর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ভাবিয়ে তুলছে ইংল্যান্ড শিবিরকে। স্বাগতিক মেক্সিকান সমর্থকদের সম্ভাব্য ‘শব্দসন্ত্রাস’ রুখে দিয়ে হ্যারি কেইনদের শতভাগ চনমনে রাখতে এবার নজিরবিহীন বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে থ্রি-লায়নরা।

মেক্সিকোর অতিউত্সাহী সমর্থকদের বিরক্ত করার রেকর্ডটা বেশ পুরোনো। শেষ বত্রিশের ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার আগে চরম তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল ইকুয়েডরের।

তাদের অভিযোগ ছিল, গভীর রাতে হোটেলের বাইরে জড়ো হয়ে লাউডস্পিকার, হর্ন আর মোটরসাইকেলের বিকট শব্দে ফুটবলারদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল স্থানীয় সমর্থকেরা। জল ঘোলা হয়েছিল ফিফার সদরদপ্তর পর্যন্ত। সেই একই ফাঁদে পা দিতে নারাজ ইংল্যান্ড। ফুটবলারদের পর্যাপ্ত ঘুম আর বিশ্রাম নিশ্চিত করতে রীতিমতো গোপন মিশন বেছে নিয়েছে তারা; গোপন রাখা হয়েছে দলের হোটেলের অবস্থান!

অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে হোটেল লোকেশন কতক্ষণ গোপন থাকবে, তা নিয়ে খোদ ইংলিশদের মনেই ধন্দ আছে।

তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগেই বিশেষ বন্দোবস্ত করে রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। যেসব ফুটবলার বা স্টাফ সঙ্গে শব্দরোধক (ইয়ারপ্লাগ) বা ঘুমের সরঞ্জাম আনেননি, তাদের জন্য প্রাকৃতিক ঘুমের উপকরণ এবং বিশেষ সাউন্ড-মাস্কিং যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের ম্যাচের আগের দিন স্বাগতিক শহরে আংশিক উন্মুক্ত অনুশীলন করতে হবে। এই বাধ্যবাধকতার কারণে ম্যাচের আগের রাতে নয়, বরং দুই দিন আগেই মেক্সিকো সিটিতে আস্তানা গেড়েছে ইংল্যান্ড।

তবে শুধু সমর্থকদের কোলাহলই নয়, ইংলিশদের আসল পরীক্ষা নেবে মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক অবস্থান।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই শহরের পাতলা বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বেশ কম, যা সমতল থেকে আসা ফুটবলারদের দম ফুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিপরীতে, চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের চারটি ম্যাচই এমন উচ্চভূমিতে খেলেছে মেক্সিকো। এর মধ্যে তিনটি মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে এবং একটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৫৬৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত গুয়াদালাহারায়।

সাধারণত এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে (অ্যাক্লিম্যাটাইজেশন) যেকোনো অ্যাথলেটের অন্তত এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে। কিন্তু ইংল্যান্ডের হাতে সেই বিলাসের সুযোগ নেই। দলের হেড কোচ টমাস টুখেলও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে অকপটে বললেন, ‘উচ্চতা আমাদের জন্য বড় একটা অসুবিধা হতে যাচ্ছে। এত অল্প সময়ে, বিশেষ করে মাত্র চার দিনে এর সঙ্গে শারীরিকভাবে মানিয়ে নেওয়া অসম্ভব। এই সুবিধাটা মেক্সিকো আগে থেকেই পাবে এবং আমরা তা জানতাম। আমাদের এখন শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমার দল সেই মানসিকতা নিয়েই প্রস্তুত।’