গাইবান্ধায় গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
প্রতিকি ছবি
চিকিৎসায় অবহেলায় গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর ঘটনায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের একটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদার রহমান।
এর আগে রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করে ক্লিনিকটি বন্ধের নির্দেশ দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশিদ ইরাম খান।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয়রা জানান, সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা, আবাসিক চিকিৎসক ছাড়াই স্টাফ, আয়া-নার্স ও বাহিরের অনভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা ও সিজারিয়ানের মত ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন ক্লিনিকটি। এ কারণে মাঝে মধ্যেই সেখানে নবজাতক কিংবা প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিম চারমাথায় অবস্থিত সততা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সকল কার্যক্রম সাময়িক বন্ধের এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশিদ ইরাম খান জানান, বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক পরিচালনা, আবাসিক চিকিৎসক না থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারনে অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি ল্যাবসহ ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদার রহমান আকন্দ, থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক সহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।
গত শনিবার (৩ জুলাই) দুপুরে সততা ক্লিনিকে সমিরন বেগম (৩৫) নামের এক গর্ভবতী নারীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবহেলার কারনে শারীরিক অবনতি হলে রোগীর স্বজনরা তাকে অন্যত্র নিতে চাইলে ক্লিনিক কতৃপক্ষ বাধা দেয়। এসময় ক্লিনিকের স্টাফদের সাথে রোগীর স্বজনদের হাতাহাতিও হয়। পরে বিকালে তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে রিলিজ দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে বগুড়ায় নেওয়ার পথে মারা যান সমিরন বেগম।
এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিলে আপোষ-মীমাংসার জন্য ক্লিনিকের মালিক জোর তৎপরতা শুরু করে। একপর্যায়ে সেদিন রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দুই পক্ষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা হয়। কিন্তু রবিবার (৪ জুলাই) রোগী মৃত্যুর ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এবং জনসাধারণের দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ক্লিনিকটিতে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন