পর্তুগালের দায়িত্ব ছাড়লেন মার্টিনেজ
রবের্তো মার্টিনেজ
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে পর্তুগালের দায়িত্ব নিয়েছিলেন রবের্তো মার্টিনেজ। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় দায়িত্বে আর থাকতে চাননি তিনি। স্পেনের কাছে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই স্প্যানিশ কোচ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ৫২ বছর বয়সী মার্টিনেজ। তিনি বলেন, পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটাই লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপ জেতা। সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না।
মার্টিনেজ বলেন, আমি পর্তুগালে এসেছিলাম বিশ্বকাপ জিততে। সেটা সম্ভব হয়নি। তাই আমার মনে হয়, দায়িত্বে থাকার আর কোনো অর্থ নেই। এখানেই আমার পথচলার সমাপ্তি।
তিনি জানান, স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল পর্তুগালের কোচ হিসেবে তার শেষ ম্যাচ। একই সঙ্গে সোমবার তার চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়েছে। এখন নতুন কোচ নিয়োগের দায়িত্ব থাকবে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের ওপর।
মার্টিনেজের ভাষায়, একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে। এখন দলের জন্য নতুন একটি কণ্ঠ প্রয়োজন। নতুন সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েঞ্চার নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কোচ নির্বাচন করার পূর্ণ সুযোগ থাকা উচিত। সেটাই স্বাভাবিক।
বিদায়ের ঘোষণার পাশাপাশি পর্তুগালের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মার্টিনেজ বলেন, পর্তুগালে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত। এখানকার মানুষ আমাকে যেভাবে আপন করে নিয়েছে, তা কখনো ভুলব না। জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য গর্বের এবং একই সঙ্গে দারুণ আনন্দের ছিল।
তিনি আরও বলেন, ফেডারেশনের সভাপতি, পরিচালনা পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট সবাই আমাকে ও আমার কোচিং স্টাফকে সব সময় প্রয়োজনীয় সমর্থন দিয়েছেন। গত সাড়ে তিন বছর আমার জীবনের অন্যতম সেরা সময়। এই স্মৃতি আমি সব সময় হৃদয়ে রাখব। আশা করি, পর্তুগালের মানুষও এই সময়টাকে ভালোভাবেই মনে রাখবে।
বিশ্বকাপে বিদায়ের পর পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটিই হতে পারে জাতীয় দলের জার্সিতে রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। তবে এ বিষয়ে কোনো ধরনের জল্পনায় যেতে চাননি মার্টিনেজ। বরং তিনি প্রশংসায় ভাসিয়েছেন দলের অধিনায়ককে।
মার্টিনেজ বলেন, রোনালদো একজন আদর্শ অধিনায়ক। শুধু গোল করার দিক থেকেই নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও তার অবদান অসাধারণ। প্রতিদিনের অনুশীলন, ফুটবলের প্রতি তার নিবেদন এবং পেশাদার মানসিকতা অন্য সবার জন্য উদাহরণ। তাকে আমাদের উদ্যাপন করা উচিত।
স্পেনের বিপক্ষে হারের পরও নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ নন মার্টিনেজ। তার মতে, নকআউট পর্যায়ের ম্যাচে খুব ছোট ছোট মুহূর্তই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।
তিনি বলেন, আমরা সাহসী ফুটবল খেলেছি। রক্ষণে সংগঠিত ছিলাম, আক্রমণেও চেষ্টা করেছি এবং প্রতিপক্ষকে কঠিন লড়াই উপহার দিয়েছি। কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কখনো বল পোস্টে লেগে বাইরে যায়, কখনো ভেতরে ঢুকে পড়ে। শেষ মুহূর্তের একটি সুযোগ কিংবা ক্ষুদ্র একটি ভুলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
২০২৩ সালের শুরুতে ফের্নান্দো সান্তোসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে পর্তুগালের দায়িত্ব নেন মার্টিনেজ। তার অধীনে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল পর্তুগাল, যদিও সেখানে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়। তবে ২০২৫ সালে স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতে সাফল্যের স্বাদ পেয়েছিল তার দল।
তবু বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজের ব্যর্থতার দায় নিজেই কাঁধে নিলেন মার্টিনেজ। স্পেনের কাছে শেষ ষোলোর পরাজয়ের মধ্য দিয়েই পর্তুগালের ডাগআউটে তার অধ্যায়েরও ইতি ঘটল।