দেশের শীর্ষ ১০ শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে সরকারের মামলার প্রস্তুতি

দেশের শীর্ষ ১০ শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে সরকারের মামলার প্রস্তুতি

প্রতীকী ছবি।

দেশের ১০টি শীর্ষ শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি ও কর ফাঁকির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। আপাতত অর্থ পাচার, কর ফাঁকি এবং দুর্নীতির বিষয়ে গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। ১১টি সংস্থার যৌথ তদন্তের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

দেশের ১০টি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের মতো অভিযোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখে বর্তমান সরকার।

গ্রুপগুলো হচ্ছে- এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, জেমকন, নাসা, বসুন্ধরা, সিকদার ও আরামিট। পাশাপাশি গ্রুপের প্রধান ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত আর্থিক বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রকৃতপক্ষে ১১টি বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে বাকি কোম্পানির নাম জানাননি তিনি।

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন ১০ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বিএফআইইউ প্রধান বলেছেন, ‘একটি যৌথ তদন্ত দল এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান করেছে। তারা অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে। এখন দেওয়ানি মামলা করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’

মূল তদন্ত করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সমন্বয়ের দায়িত্বে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ। আর আইনি সহায়তা দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

গত ২ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিএফআইইউকে আইন ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ বিধিমালার আওতায় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ তদন্তের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানায়। এরপর ৬ জানুয়ারি যৌথ তদন্তের নেতৃত্ব ও শর্ত চূড়ান্ত করা হয়।

অনুসন্ধান ও তদন্তের আওতায় আসা গ্রুপগুলোর বেশিরভাগের ব্যাংক হিসাব এরই মধ্যে জব্দ করেছে বিএফআইইউ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে তাদের সম্পদের বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রেসিডেন্ট মাসরুর আরেফিন জানিয়েছিলেন, যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, সেসব ব্যাংককে পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

এ ধরনের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। তবে তারা আশাবাদী যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে।