নিখোঁজ কার্গো বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করল পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত
আরব সাগরে নিখোঁজ হওয়া পাকিস্তানি বেসরকারি বিমানসংস্থা ‘কে-২ এয়ারওয়েজের’ একটি কার্গো বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে দেশটির নৌবাহিনী ও সামুদ্রিক উদ্ধারকারী সংস্থা। তবে বিমানে থাকা ৫ জন ক্রু সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের উদ্ধারে সাগরে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১২ ঘণ্টার তল্লাশি অভিযানের পর বেলুচিস্তানের গোয়াদার জেলার উপকূলীয় শহর ওরমারা থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে সাগরে বোয়িং ৭৩৭-৪০০ মডেলের কার্গো বিমানটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত ও উদ্ধার করা হয়। বিমানে থাকা ক্রু সদস্যদের খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এরআগে মঙ্গলবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল মালবাহী বিমানটি। তবে করাচি বিমানবন্দরে অবতরণের কিছু সময় আগে, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৮ মিনিটে পাইলট তাদের নেভিগেশন সিস্টেমে ত্রুটির কথা জানান। এর ঠিক তিন মিনিট পর রাত ৯টা ২১ মিনিটে বিমানটি রাডার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গ্লোবাল ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট- ফ্লাইট রাডার ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রাডার থেকে হারিয়ে যাওয়ার শেষ মুহূর্তে বিমানটির উচ্চতায় অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা যায়। মাত্র এক মিনিটে এটি প্রায় ৫ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়, এরপর আবার ৬ হাজার ফুট ওপরে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৫৫০ ফুট উচ্চতা থেকে খাড়াভাবে নিচের দিকে পড়তে শুরু করে। শেষ সিগন্যালে দেখা যায় বিমানটি প্রতি মিনিটে ২২ হাজার ৪০০ ফুট (ঘণ্টায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার) গতিতে খাড়াভাবে সাগরে আছড়ে পড়েছিল।
পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যম ডন জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই দেশটির নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস জুলফিকার’ সহ একাধিক নৌযান সাগরে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি আকাশপথে অনুসন্ধানের জন্য বিমানবাহিনীর বিমান ওরমারা ও করাচি উপকূলে নজরদারি চালাচ্ছে। তবে মৌসুমি বায়ুর কারণে সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় উদ্ধারকারীদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত উদ্ধারকাজের নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র: ডন, গালফ নিউজ