অতিবৃষ্টির ঝুঁকিতে পটিয়া, প্রস্তুত ৩৬ আশ্রয়কেন্দ্র
প্রতীকী ছবি
সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে পটিয়ায় জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন এবং পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, মোবাইল হাসপাতাল ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে খোলা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে পটিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরো বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন, পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় মাটিধস কিংবা পাহাড়ি ঢলের মতো ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে নির্ধারিত স্কুল-কলেজগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এসব কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা, জরুরি খাদ্য সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে আগেভাগেই সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, শিশু খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ, নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোতে বসবাসকারীদের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, আবহাওয়াজনিত বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন বা পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা আছে, সেসব এলাকার মানুষকে আগে থেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
আমরা আশ্রয়কেন্দ্র, মোবাইল হাসপাতাল ও ত্রাণ কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রস্তুত রেখেছি।
তিনি আরো বলেন, কেউ যেন ঝুঁকি নিয়ে বসতবাড়িতে অবস্থান না করেন। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদ, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আরো আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হবে এবং দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা, চিকিৎসাসেবা ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে জনজীবনে ভোগান্তি বাড়তে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চলে পানি জমে থাকা, কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কৃষিজমিতে পানি ওঠার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগাম আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।