অতিবৃষ্টিতে মাগুরায় কালভার্ট ধস, সড়কে ৩০ ফুট গর্ত
সংগৃহীত
একদিনের টানা অতিবৃষ্টিতে খালের পানির প্রবল স্রোতে মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এতে সড়কের প্রায় ৩০ ফুট ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে কালভার্টটি ধসে পড়ার পর থেকে ওই এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। দুপুরের দিকে প্রবল স্রোতের চাপে কালভার্টের নিচের অংশে ধস শুরু হয়। একপর্যায়ে পুরো কালভার্টটি ভেঙে পড়ে এবং সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ধসে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহারকারী শত শত মানুষকে এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অনেকেই আবার ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হওয়ার চেষ্টা করছেন, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্রুত সচল করা না হলে এলাকার শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাই দ্রুত অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগেই এই রাস্তার কাজ শেষ হয়েছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে কালভার্ট ভেঙে পড়ায় আমরা বিস্মিত। দ্রুত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা ও একটি টেকসই নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি।
সমাজসেবক শাহ নেওয়াজ বলেন, এই সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কালভার্ট ধসে পড়ায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনের উচিত জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং দ্রুত একটি মানসম্মত ও টেকসই কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, ধসে পড়া কালভার্টটি পরিদর্শনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন করে একটি কালভার্ট নির্মাণের বিষয়ে এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।