৪ ছেলের পাকা বাড়ি, বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই হলো খোলা আকাশের নিচে

৪ ছেলের পাকা বাড়ি, বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই হলো খোলা আকাশের নিচে

সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে চার ছেলের পাকা বাড়ি থাকলেও খোলা আকাশের নিচে একটি ভাঙা চৌকিতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন ৭০ বছর বয়সী আরেসের নেছা। টানা বৃষ্টিতে চৌকিটিও ভিজে যাওয়ায় তার দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বৃদ্ধার সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাকে ছেলের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি উপজেলার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামী হযরত আলীর মৃত্যুর পর আরেসের নেছা একাই চার ছেলে ও এক মেয়েকে লালন-পালন করেন। অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের বড় করেন এবং মেয়ের বিয়েও দেন। তার চার ছেলে আব্দুর রহিম, মোমেন মিয়া, হুমায়ুন কবির ও ইয়াসিন মিয়া। এর মধ্যে ইয়াসিন মারা গেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, অন্য ছেলেরা পাকা বাড়িতে বসবাস করলেও আরেসের নেছা দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে তৃতীয় ছেলে হুমায়ুন কবিরের বাড়ির পাশের একটি পুরোনো চৌকিতে খোলা আকাশের নিচে ছিলেন। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে চৌকিটি ভিজে গেলে তার জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

বৃদ্ধার এমন অবস্থার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এলাকাবাসীর দাবি, মা-বাবার ভরণপোষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সন্তানের নৈতিক, সামাজিক এবং আইনগত দায়িত্ব। এমন ঘটনা যেন আর কোথাও না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, দুই ছেলের পাকা বাড়ি থাকার পরও যদি মায়ের মাথা গোঁজার ঠাঁই না হয়, তার চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।

প্রবীণ বাসিন্দা সুরুজ মিয়া বলেন, মা-বাবার সেবা করা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি সন্তানের কর্তব্য। এমন ঘটনা সমাজের জন্য লজ্জাজনক।

তৃতীয় ছেলে হুমায়ুন কবির দাবি করেন, তিনি সব সময় মায়ের দেখভাল করেছেন। অন্য দুই ভাই খোঁজখবর নেন না। বাড়িতে অতিথি থাকার কারণে গত দুই মাস মা বাইরে ছিলেন। এটিকে নিজের ভুল স্বীকার করে তিনি বলেন, এখন থেকে মায়ের পুরো দায়িত্ব নেবেন।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামের নজরে এলে তিনি রবিবার রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে আরেসের নেছাকে উদ্ধার করে হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার ছেলেদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। তারা মায়ের যথাযথ দেখভাল করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখবে।