চট্টগ্রামে পানি কমছে, ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে এতে দুর্ভোগ কমেনি। কোথাও এখনো কোমরসমান, কোথাও হাঁটুপানি রয়েছে। আর যেসব এলাকায় পানি নেমেছে, সেখানে একে একে সামনে আসছে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, ধসে পড়া দেয়াল ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের চিত্র।
ফলে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অনেকে বাড়ি-ঘরে ফিরেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছেন না অনেকে। আবার ভারী বৃষ্টিতে নতুন করে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায়ও রয়েছেন হাজারো মানুষ।
বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস বলেন, গতকাল সারা দিন বৃষ্টি পড়েনি। যার কারণে পানি ধীরে ধীরে নেমে গেছে। তবে রাতে যদি আবারও বৃষ্টি হয় তখন পরিস্থিতি আবারো অবনতি হবে। তবে এখনো গ্রামীণ সড়কগুলো হাটু পানি রয়েছে। ঘরে বসবাস করার মতো পরিবেশ নেই। আবার এদিকে পর্যাপ্ত ত্রাণও আসছে না। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণগুলো নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় চলে যাচ্ছে। ছনুয়া, খানখানাবাদ ও শীলকূপসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ত্রাণ প্রয়োজন।
বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের মধ্যম মানিকপাঠান গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। সে সঙ্গে ভেসে উঠছে ক্ষতের চিত্র। ধসে পড়া মাটির দেওয়াল, নরম হয়ে যাওয়া ঘরের গোড়া, ক্ষতিগ্রস্ত বীজাগারের চিত্র বলছে, পানি গেলেও জীবন স্বাভাবিক হতে বেশ দেরি।
গ্রামের উলা মিয়া (৪৮) বন্যার সময় ছেলেমেয়েদের নিয়ে তিন কিলোমিটার দূরে বৈলছড়ি ইউনিয়নে শ্বশুরের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পানি নামার খবরে নিজের বাড়ি দেখতে এসে তার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ঘরের মাটির দেওয়ালের গোড়া এতটাই নরম হয়ে গেছে যে, যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। ভেতরে ঢোকার সাহস হচ্ছে না কারও। একই চিত্র পাশের পারভিন আক্তারেরও। টিন ও মাটির তৈরি তার ছোট্ট ঘরে বন্যার পানি ঢুকে দেওয়াল ধসিয়ে দিয়েছে। পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে পাঁচদিন বড় ভাইয়ের পাকা বাড়িতে ছিলেন। পানি কমলেও নিজের ভিটায় ফেরার পরিস্থিতি নেই।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ৫ জুলাই শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি, খানখানাবাদ, কাথরিয়া, বৈলছড়ি ও ছনুয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর, বারশত, পরৈকোড়া ও হাইলধর এলাকার কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া, কেওচিয়া, ধর্মপুর, বাজালিয়াসহ ১৮টি ইউনিয়ন।
এদিকে বেসরকারি ও সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গত দুইদিনে বেশ চোখে পড়ার মতো। আনোয়ারা উপজেলার বারখানই এলাকায় বিএনপির পক্ষে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ভূমিপ্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন। এছাড়া সরকারি নানা সংস্থা উপজেলাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিশেষ করে চোখে পড়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রমের। বন্যাকবলিত বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নে ট্রাকভর্তি সহায়তা সামগ্রী নিয়ে এসেছেন আনোয়ারা উপজেলার হেটিখাইন ইয়াং স্টার ক্লাবের সদস্যরা। যার মধ্যে রয়েছে চাল-ডাল, শুকনো খাবার আর বিশুদ্ধ পানি। তারা বলেন, ‘আমরা সাহায্য করতে আসিনি, ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। এগুলো ত্রাণ নয় আমাদের ভাইবোনদের জন্য উপহার সামগ্রী।